Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

সংসদীয় গরিমা ক্ষুণ্ণ করার নয়া কৌশল? স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে সংসদ অচল করার ষড়যন্ত্রে বিরোধীরা!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংসদীয় গরিমা ক্ষুণ্ণ করার নয়া কৌশল? স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে সংসদ অচল করার ষড়যন্ত্রে বিরোধীরা!

নয়াদিল্লি: লোকসভার স্পিকারের নিরপেক্ষ চেয়ারকেও এবার রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দানে টেনে আনল কংগ্রেস সহ ‘ইন্ডি’ জোটের সাংসদরা। সূত্রের দাবি, সংসদীয় রীতিনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার তোড়জোড় শুরু করেছে বিরোধী শিবির। আগামী ৯ মার্চ বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হলেই এই পদক্ষেপ করতে চলেছে তারা। রাজনৈতিক মহলের মতে, গঠনমূলক আলোচনার পরিবর্তে স্পিকারের পদের অবমাননা করে সংবাদ শিরোনামে থাকাই এখন বিরোধীদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।


ঘটনার সূত্রপাত হয় প্রাক্তন সেনাপ্রধান এম.এম. নারাভানের একটি অপ্রকাশিত বইয়ের অংশ পড়া নিয়ে। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সংসদের ভিতরে ওই বইয়ের বিতর্কিত অংশ পড়ার চেষ্টা করলে তীব্র আপত্তি জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। স্পিকার ওম বিড়লা অত্যন্ত সঙ্গতভাবেই রাহুল গান্ধীকে মনে করিয়ে দেন, সংসদের অলিন্দে কোনও বই, ম্যাগাজিন বা নিউজ আর্টিকেল পড়া সংসদীয় শিষ্টাচার বহির্ভূত। নিয়ম মেনেই তিনি রাহুলকে বাধা দেন। অথচ বিরোধীরা একে ‘দ্বিচারিতা’ বলে দাগিয়ে দিতে চাইছে। 


স্পিকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের ক্ষোভের আরও একটি কারণ অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর। জানা গিয়েছে, রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর প্রধানমন্ত্রীর জবাবি ভাষণের দিন স্পিকারের কাছে খবর ছিল, বিরোধী সাংসদরা প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অপমান করতে পারেন এবং কোনও ‘অপ্রীতিকর’ ঘটনা ঘটাতে পারেন। সংসদীয় মর্যাদার রক্ষক হিসাবে ওম বিড়লা প্রধানমন্ত্রীকে লোকসভায় না আসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। বিরোধীদের অভব্য আচরণ থেকে সংসদকে রক্ষা করার এই চেষ্টাকেই এখন ‘পক্ষপাতিত্ব’ হিসাবে তকমা দিচ্ছে কংগ্রেস ও তাদের সঙ্গীরা।


ইতিমধ্যে, সংসদে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার দায়ে কংগ্রেস সহ বিভিন্ন বিরোধী দলের আট সাংসদকে গোটা অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিরোধী সাংসদরা নিজেদের অগণতান্ত্রিক আচরণের দায় স্বীকার না করে উল্টে স্পিকারের উপরই দোষ চাপাচ্ছেন। এমনকী, মহিলা সাংসদদের নিয়ে মিথ্যা অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলেও জলঘোলা করার চেষ্টা চলছে। ১৪ দিনের নোটিশ পিরিয়ড না থাকায় বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে এই অনাস্থা প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা করেছে বিরোধীরা।


রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ যখন উন্নয়নের বাজেট নিয়ে এগোচ্ছে, তখন স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে সংসদের মূল্যবান সময় নষ্ট করতে চাইছে বিরোধী দলগুলো। এটি কেবল একজন স্পিকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নয়। বরং, সংসদীয় গণতন্ত্রের অভিভাবক সমতুল্য পদটিকে কালিমালিপ্ত করার এক পরিকল্পিত চেষ্টা। বিরোধীদের এই ‘নেতিবাচক রাজনীতি’ শেষ পর্যন্ত দেশের গণতন্ত্রের জন্য কতটা ক্ষতিকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বিষয় : Loksabha Speaker

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


সংসদীয় গরিমা ক্ষুণ্ণ করার নয়া কৌশল? স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে সংসদ অচল করার ষড়যন্ত্রে বিরোধীরা!

প্রকাশের তারিখ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: লোকসভার স্পিকারের নিরপেক্ষ চেয়ারকেও এবার রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দানে টেনে আনল কংগ্রেস সহ ‘ইন্ডি’ জোটের সাংসদরা। সূত্রের দাবি, সংসদীয় রীতিনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার তোড়জোড় শুরু করেছে বিরোধী শিবির। আগামী ৯ মার্চ বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হলেই এই পদক্ষেপ করতে চলেছে তারা। রাজনৈতিক মহলের মতে, গঠনমূলক আলোচনার পরিবর্তে স্পিকারের পদের অবমাননা করে সংবাদ শিরোনামে থাকাই এখন বিরোধীদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।ঘটনার সূত্রপাত হয় প্রাক্তন সেনাপ্রধান এম.এম. নারাভানের একটি অপ্রকাশিত বইয়ের অংশ পড়া নিয়ে। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সংসদের ভিতরে ওই বইয়ের বিতর্কিত অংশ পড়ার চেষ্টা করলে তীব্র আপত্তি জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। স্পিকার ওম বিড়লা অত্যন্ত সঙ্গতভাবেই রাহুল গান্ধীকে মনে করিয়ে দেন, সংসদের অলিন্দে কোনও বই, ম্যাগাজিন বা নিউজ আর্টিকেল পড়া সংসদীয় শিষ্টাচার বহির্ভূত। নিয়ম মেনেই তিনি রাহুলকে বাধা দেন। অথচ বিরোধীরা একে ‘দ্বিচারিতা’ বলে দাগিয়ে দিতে চাইছে। স্পিকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের ক্ষোভের আরও একটি কারণ অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর। জানা গিয়েছে, রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর প্রধানমন্ত্রীর জবাবি ভাষণের দিন স্পিকারের কাছে খবর ছিল, বিরোধী সাংসদরা প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অপমান করতে পারেন এবং কোনও ‘অপ্রীতিকর’ ঘটনা ঘটাতে পারেন। সংসদীয় মর্যাদার রক্ষক হিসাবে ওম বিড়লা প্রধানমন্ত্রীকে লোকসভায় না আসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। বিরোধীদের অভব্য আচরণ থেকে সংসদকে রক্ষা করার এই চেষ্টাকেই এখন ‘পক্ষপাতিত্ব’ হিসাবে তকমা দিচ্ছে কংগ্রেস ও তাদের সঙ্গীরা।ইতিমধ্যে, সংসদে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার দায়ে কংগ্রেস সহ বিভিন্ন বিরোধী দলের আট সাংসদকে গোটা অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বিরোধী সাংসদরা নিজেদের অগণতান্ত্রিক আচরণের দায় স্বীকার না করে উল্টে স্পিকারের উপরই দোষ চাপাচ্ছেন। এমনকী, মহিলা সাংসদদের নিয়ে মিথ্যা অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলেও জলঘোলা করার চেষ্টা চলছে। ১৪ দিনের নোটিশ পিরিয়ড না থাকায় বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে এই অনাস্থা প্রস্তাব আনার পরিকল্পনা করেছে বিরোধীরা।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ যখন উন্নয়নের বাজেট নিয়ে এগোচ্ছে, তখন স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে সংসদের মূল্যবান সময় নষ্ট করতে চাইছে বিরোধী দলগুলো। এটি কেবল একজন স্পিকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নয়। বরং, সংসদীয় গণতন্ত্রের অভিভাবক সমতুল্য পদটিকে কালিমালিপ্ত করার এক পরিকল্পিত চেষ্টা। বিরোধীদের এই ‘নেতিবাচক রাজনীতি’ শেষ পর্যন্ত দেশের গণতন্ত্রের জন্য কতটা ক্ষতিকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার