কলকাতা: নিত্যপণ্যের অগ্নিমূল্য থেকে শুরু করে নারী নিরাপত্তা—প্রতিটি ক্ষেত্রে বর্তমান তৃণমূল সরকার ব্যর্থ। রাজ্যের এই চরম অরাজকতায় বিজেপি-ই একমাত্র বিকল্প এবং বিজেপির আদর্শই বাংলাকে সঠিক দিশা দেখাবে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাজ্যের বিভিন্ন জ্বলন্ত ইস্যু নিয়ে তৃণমূলকে কার্যত কোণঠাসা করলেন বিজেপি মুখপাত্র ড. শতরূপা।
নিত্যপণ্যের জ্বালা ও বেকারত্ব: সমাধানের দিশা কেবল বিজেপিতে
রাজ্যের মানুষ আজ দিশেহারা। একদিকে আকাশছোঁয়া বাজারদর, অন্যদিকে কর্মহীন যুবসমাজ । ড. শতরূপার মতে, তৃণমূল কেবল দুর্নীতির পাহাড় গড়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের পকেটের টান কমাতে পারেনি। বিজেপি ক্ষমতায় এলে কেন্দ্রীয় জনকল্যাণমুখী নীতিগুলি রাজ্যে প্রয়োগ করে বাজারদর নিয়ন্ত্রণ এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণে বদ্ধপরিকর ।
আর জি কর কাণ্ড: প্রশাসনিক ব্যর্থতা না কি গভীর ষড়যন্ত্র?
আর জি করের মর্মান্তিক ঘটনাকে প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা ও গভীর রাজনৈতিক প্রভাবের ফসল হিসেবেই দেখছে বিজেপি । ড. শতরূপা স্পষ্ট জানান, রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আতঙ্কজনক এবং বিজেপি তাদের 'রোডম্যাপ'-এ নারীর নিরাপত্তা ও কঠোর আইন বলবৎ করার প্রতিশ্রুতি ইশতেহারেও রাখবে ।
তোষণ বনাম সুরক্ষা: রোহিঙ্গা ও ভোটার তালিকা বিতর্ক
বাংলার জনবিন্যাস বদলে দিতে তৃণমূলের "রোহিঙ্গা তোষণ" এখন ওপেন সিক্রেট । ভোটার তালিকা সংশোধনে মতুয়াদের নাম বাদ পড়া বা সংখ্যাতত্ত্বের গরমিল আদতে তৃণমূলের রাজনৈতিক কৌশল । ড. শতরূপার দাবি, বিজেপি বাংলার মাটিকে অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে মুক্ত করে প্রকৃত নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করবে।
"ডাবল ইঞ্জিন" সরকারই উন্নয়নের চাবিকাঠি
বাংলার মানুষ বুঝতে পেরেছে যে কেন্দ্রে ও রাজ্যে একই দলের সরকার থাকলে উন্নয়নের গতি দ্বিগুণ হয় । তৃণমূলের অসহযোগিতার কারণেই অনেক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুফল বাংলার মানুষ পায়নি। বিজেপি বাংলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে "ডাবল ইঞ্জিন" তত্ত্বকেই সামনে রেখে এগোচ্ছে ।
লবি রাজনীতি ও আদর্শের লড়াই
বিজেপিতে কোনো লবি নেই, এখানে একটাই লবি আর সেটা হলো 'ভারত মাতা'র লবি । ড. শতরূপার কথায়, তৃণমূলের মতো পিসি-ভাইপো কেন্দ্রিক রাজনীতি বিজেপিতে হয় না। যাঁরা অন্য দল ছেড়ে বিজেপিতে আসছেন, তাঁরা তৃণমূলের অপশাসনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে এবং বিজেপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই আসছেন । হিন্দুত্ব কেবল কোনো 'কার্ড' নয়, এটি ভারতীয়ত্বের প্রাণভোমরা এবং বিজেপি গ্রাউন্ড পলিটিক্সের মাধ্যমেই তৃণমূলের বিদায় ঘণ্টা বাজাবে ।
বিজেপিতে কোনো ‘ব্যক্তি লবি’ নেই, এখানে আদর্শই শেষ কথা। তৃণমূলের মতো গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে বিজেপি বিশ্বাসী নয় । যাঁরা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসছেন, তাঁরা ক্ষমতার জন্য নয়, বরং তৃণমূলের পচনশীল নীতি ছেড়ে দেশের আদর্শের টানেই আসছেন । তাঁর মতে, হিন্দুত্ব কোনো ‘কার্ড’ নয়, এটি ভারতের সংস্কৃতি। বিজেপির হাতে সর্বদা সুশাসনের এজেন্ডা তৈরি আছে । বাংলার মাটিতে তৃণমূলকে হারাতে বিজেপির প্রধান অস্ত্র কেবল সোশ্যাল মিডিয়া নয়, বরং শক্তিশালী ‘গ্রাউন্ড পলিটিক্স’ ।
মেসির প্রতিশ্রুতি ও ক্রীড়া উন্নয়ন
ফুটবল পাগল বাংলার জন্য লিওনেল মেসিকে কলকাতায় আনার প্রতিশ্রুতি কোনো অতিশয়োক্তি নয় । তৃণমূল যেখানে ফুটবল নিয়ে নোংরা রাজনীতি করছে এবং অব্যবস্থাপনা তৈরি করছে, বিজেপি সেখানে ভারতীয় ফুটবলের মানোন্নয়ন এবং বিশ্বমানের তারকাদের বাংলায় এনে খেলাধুলার পরিবেশ ফেরাতে চায় ।
বাংলার মাটিতে তৃণমূল কংগ্রেস আজ একটি ক্ষয়িষ্ণু শক্তিতে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রশাসনিক মেরুদণ্ড সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ড. শতরূপার এই স্পষ্ট বার্তা প্রমাণ করে যে, আর জি কর থেকে শুরু করে বেকারত্ব—প্রতিটি ইস্যুতে তৃণমূল আজ কোণঠাসা। বাংলার মানুষ বুঝে গেছে, দুর্নীতিমুক্ত এবং নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গ গড়তে হলে বিজেপির ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ নীতিই একমাত্র ধ্রুবতারা। তৃণমূলের এই কুশাসনের অন্ধকার সরিয়ে আগামীতে পদ্ম শিবিরের হাত ধরেই বাংলায় প্রকৃত ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠিত হবে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন