Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থার নোটিস: সামিল ১২০ সাংসদ, কংগ্রেসের পাশে সপা-ডিএমকে, হাওয়া তৃণমূল!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থার নোটিস: সামিল ১২০ সাংসদ, কংগ্রেসের পাশে সপা-ডিএমকে, হাওয়া তৃণমূল!

নয়াদিল্লি: লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে মঙ্গলবার সচিবালয়ে নোটিস জমা দিল বিরোধী শিবির। লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেল উৎপলকুমার সিংয়ের কাছে নোটিসটি জমা দেন কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক কে সুরেশ। তবে, এই পদক্ষেপ ঘিরে মোদী সরকারের উপর চাপের চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র অভ্যন্তরীণ ফাটল। কংগ্রেসের এই অভিযানে ডিএমকে এবং সমাজবাদী পার্টি সই করলেও, স্পষ্ট দূরত্ব বজায় রাখল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস।


বিরোধীদের মূল অভিযোগ দুটি। প্রথমত, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদজ্ঞাপন পর্বে রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী সাংসদদের বলতে বাধা দেওয়া এবং দ্বিতীয়ত, নিয়মবহির্ভূতভাবে আটজন সাংসদকে সাসপেন্ড করা। পিটিআই সূত্রের খবর, নোটিসে বিরোধী শিবিরের ১২০ জন সাংসদ স্বাক্ষর করেছেন। সংবিধানের ৯৪(সি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকারকে সরাতে গেলে লোকসভায় যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা প্রয়োজন, তা বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে বিরোধীদের জন্য প্রায় অসম্ভব। তবুও নৈতিক জয় ও সংসদীয় প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসাবেই এই নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।


তবে, এরই মধ্যে বিরোধী জোটের ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে তৃণমূলের অবস্থানে। লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সকালেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের যৌথ বিবৃতি ও তিনদিনের সময়সীমা ছাড়া তাঁরা সংশ্লিষ্ট নোটিসে সই করবেন না। আদতে দেখা গেল, কংগ্রেস তৃণমূলের সেই শর্তে কান না দিয়েই তড়িঘড়ি নোটিস জমা দিয়েছে।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, স্পিকারের মতো সাংবিধানিক পদের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার মতো গুরুতর বিষয়েও বিরোধী জোটের প্রধান শরিকদের মধ্যে কোনও অভিন্ন রণকৌশল নেই। কংগ্রেস যখন নিজেদের প্রধান বিরোধী মুখ হিসাবে তুলে ধরতে চাইছে, তৃণমূল তখন শর্ত চাপিয়ে নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। 


সংশ্লিষ্ট নোটিসে ১২০ জন সাংসদের সই থাকলেও তৃণমূলের বাদ যাওয়া বিরোধীদের এই লড়াইকে সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে আরও দুর্বল করে দিল। লোকসভায় এই প্রস্তাব পাশ হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই জেনেও কেন শরিকদের এক ছাতার তলায় আনা গেল না, সেই প্রশ্ন আদতে কংগ্রেসের সাংগঠনিক ব্যর্থতাই প্রকট করে।


বিরোধী শিবিরের এই পদক্ষেপকে কটাক্ষ করে বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, “যাঁদের বিবেক অপসারিত হয়েছে, তাঁরাই দেশের সাংবিধানিক পদকে অপসারিত করতে চাইছেন। রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসকে রাজনীতি থেকেই অপসারিত করা উচিত।”


সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, নোটিস জমা দেওয়ার অন্তত ১৪ দিন পর ভোটাভুটি বা আলোচনা সম্ভব। সেক্রেটারি জেনারেল বর্তমানে নোটিসটি খতিয়ে দেখছেন। যদি প্রস্তাব গৃহীত হয়, তবে সেই সময় স্পিকারের পরিবর্তে ডেপুটি স্পিকার বা রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত কোনও সাংসদ অধিবেশন পরিচালনা করবেন।


রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, স্পিকারকে সরিয়ে দেওয়া বিরোধীদের লক্ষ্য নয়, বরং সংসদ অচল করার রাজনীতিই এখানে মুখ্য। কিন্তু, সেই লড়াইয়ে নামার আগেই শরিকি বিবাদ যেভাবে সামনে চলে এল, তাতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে ফের সংশয় তৈরি হল।

বিষয় : Loksabha Speaker Om Birla

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থার নোটিস: সামিল ১২০ সাংসদ, কংগ্রেসের পাশে সপা-ডিএমকে, হাওয়া তৃণমূল!

প্রকাশের তারিখ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে মঙ্গলবার সচিবালয়ে নোটিস জমা দিল বিরোধী শিবির। লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেল উৎপলকুমার সিংয়ের কাছে নোটিসটি জমা দেন কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক কে সুরেশ। তবে, এই পদক্ষেপ ঘিরে মোদী সরকারের উপর চাপের চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র অভ্যন্তরীণ ফাটল। কংগ্রেসের এই অভিযানে ডিএমকে এবং সমাজবাদী পার্টি সই করলেও, স্পষ্ট দূরত্ব বজায় রাখল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস।বিরোধীদের মূল অভিযোগ দুটি। প্রথমত, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ধন্যবাদজ্ঞাপন পর্বে রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী সাংসদদের বলতে বাধা দেওয়া এবং দ্বিতীয়ত, নিয়মবহির্ভূতভাবে আটজন সাংসদকে সাসপেন্ড করা। পিটিআই সূত্রের খবর, নোটিসে বিরোধী শিবিরের ১২০ জন সাংসদ স্বাক্ষর করেছেন। সংবিধানের ৯৪(সি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকারকে সরাতে গেলে লোকসভায় যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা প্রয়োজন, তা বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে বিরোধীদের জন্য প্রায় অসম্ভব। তবুও নৈতিক জয় ও সংসদীয় প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসাবেই এই নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।তবে, এরই মধ্যে বিরোধী জোটের ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে তৃণমূলের অবস্থানে। লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সকালেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের যৌথ বিবৃতি ও তিনদিনের সময়সীমা ছাড়া তাঁরা সংশ্লিষ্ট নোটিসে সই করবেন না। আদতে দেখা গেল, কংগ্রেস তৃণমূলের সেই শর্তে কান না দিয়েই তড়িঘড়ি নোটিস জমা দিয়েছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, স্পিকারের মতো সাংবিধানিক পদের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার মতো গুরুতর বিষয়েও বিরোধী জোটের প্রধান শরিকদের মধ্যে কোনও অভিন্ন রণকৌশল নেই। কংগ্রেস যখন নিজেদের প্রধান বিরোধী মুখ হিসাবে তুলে ধরতে চাইছে, তৃণমূল তখন শর্ত চাপিয়ে নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। সংশ্লিষ্ট নোটিসে ১২০ জন সাংসদের সই থাকলেও তৃণমূলের বাদ যাওয়া বিরোধীদের এই লড়াইকে সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে আরও দুর্বল করে দিল। লোকসভায় এই প্রস্তাব পাশ হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই জেনেও কেন শরিকদের এক ছাতার তলায় আনা গেল না, সেই প্রশ্ন আদতে কংগ্রেসের সাংগঠনিক ব্যর্থতাই প্রকট করে।বিরোধী শিবিরের এই পদক্ষেপকে কটাক্ষ করে বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, “যাঁদের বিবেক অপসারিত হয়েছে, তাঁরাই দেশের সাংবিধানিক পদকে অপসারিত করতে চাইছেন। রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসকে রাজনীতি থেকেই অপসারিত করা উচিত।”সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, নোটিস জমা দেওয়ার অন্তত ১৪ দিন পর ভোটাভুটি বা আলোচনা সম্ভব। সেক্রেটারি জেনারেল বর্তমানে নোটিসটি খতিয়ে দেখছেন। যদি প্রস্তাব গৃহীত হয়, তবে সেই সময় স্পিকারের পরিবর্তে ডেপুটি স্পিকার বা রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত কোনও সাংসদ অধিবেশন পরিচালনা করবেন।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, স্পিকারকে সরিয়ে দেওয়া বিরোধীদের লক্ষ্য নয়, বরং সংসদ অচল করার রাজনীতিই এখানে মুখ্য। কিন্তু, সেই লড়াইয়ে নামার আগেই শরিকি বিবাদ যেভাবে সামনে চলে এল, তাতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে ফের সংশয় তৈরি হল।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার