কলকাতা: আজ ১১ ফেব্রুয়ারি, পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবসে কলকাতার হোটেল অল্টএয়ারে এক গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী ভূপেন্দ্র যাদব। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি এবং কেন্দ্রীয় বাজেটের সুফল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার পাশাপাশি রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন।
ভূপেন্দ্র যাদব জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত আজ জাপানকে ছাপিয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ভারতের জিডিপি ৪.১৮ থেকে ৪.১৯ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে নির্মলা সীতারামন টানা ৯ বার বাজেট পেশ করেছেন। ২০১৪ সালে যা ছিল ২ লক্ষ কোটি টাকা, বর্তমানে তা ৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ১২ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। গত ১০ বছরে ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার উপরে উঠে এসেছেন। এয়ারপোর্ট, পোর্ট এবং ফ্রেট করিডরের প্রসারে জোর দেওয়া হয়েছে। সুরাট-ডানকুনি এবং শিলিগুড়ি-বেনারস করিডর হলে লজিস্টিক খরচ ৩০% কমবে।
রাজ্যের শিল্প পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে ৬৮০০টি নথিভুক্ত কোম্পানি বন্ধ হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাজেটে ১০ হাজার কোটি টাকার গ্রোথ ফান্ডের সুবিধা পশ্চিমবঙ্গের ধুঁকতে থাকা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে প্রাণ ফেরাবে। দেশের ৮০% পাট এরাজ্যে উৎপাদিত হয়। বাজেটে জুট টেকনোলজির উন্নতির যে ঘোষণা হয়েছে, তাতে সরাসরি ২.৫ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবেন।
নারী ক্ষমতায়নে বিজেপির সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশজুড়ে ২ কোটি মহিলা ‘লাখপতি দিদি’ হয়েছেন। কাজের সূত্রে বা পড়াশোনার জন্য শহরে আসা মেয়েদের জন্য প্রতি জেলায় বালিকা ছাত্রাবাস তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে এই বাজেটে।
ভূপেন্দ্র যাদব পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ‘ব্যাড গভর্নেন্স’-এর উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ,
১. দুর্নীতি ও অব্যবস্থা: মনরেগা, আবাস যোজনা ও পিএম পোষণ যোজনার টাকা নয়ছয় হয়েছে এবং সঠিক ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট দেওয়া হয়নি।
২. প্রকল্পে বাধা: আয়ুষ্মান ভারত ও পিএম কিষান যোজনা এরাজ্যে কার্যকর করতে দেওয়া হয়নি।
৩. ঋণের বোঝা: রাজ্য সরকার ক্রমাগত ধার করে চলেছে কিন্তু রোজগার বাড়ানোর কোনো দিশা নেই।
৪. শিক্ষা ও বরাদ্দ: বিজ্ঞানীদের ভূমি হওয়া সত্ত্বেও বিজ্ঞান শিক্ষায় বাজেট কমিয়ে মাদ্রাসায় ৫,৭১৩.৬১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের ৩ কোটি মানুষের জন্য মাত্র ৯১০ কোটি টাকা বরাদ্দকে তিনি বঞ্চনা বলে অভিহিত করেন।
পরিশেষে তিনি বলেন, এই বাজেট কেবল তৃণমূলের শেষ বাজেট নয়, এটি তাদের "বিদায়পত্র"।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন