বাঁকুড়া: শরীর ভেঙে পড়লেও মনের জোর যে কতটা দৃঢ় হতে পারে, তারই নজির গড়ল বাঁকুড়ার সোনামুখীর এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। অসুস্থতাও দমাতে পারল না তার অদম্য জেদকে। বুধবার সোনামুখী বি. জে. হাইস্কুল পরীক্ষাকেন্দ্রের বদলে সোনামুখী গ্রামীণ হাসপাতালের বেডে শুয়েই ভৌত বিজ্ঞানের কঠিন প্রশ্নের মোকাবিলা করল এই লড়াকু পরীক্ষার্থী।
জানা গিয়েছে, পরীক্ষার ঠিক আগেই হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই ছাত্র। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। কিন্তু, এমন শারীরিক অবস্থাতেও বছরভর পরিশ্রমের ফসল ‘মাধ্যমিক পরীক্ষা’ হাতছাড়া করতে রাজি ছিল না সে। তার সেই অদম্য ইচ্ছাকে সম্মান জানাতে এগিয়ে আসে শিক্ষা দফতর ও স্থানীয় প্রশাসন।
প্রশাসনের বিশেষ অনুমতিতে তার জন্য হাসপাতালেই পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। হাতে স্যালাইনের নল লাগানো অবস্থায়, পুলিশের কড়া প্রহরা ও শিক্ষা দফতরের বিশেষ পর্যবেক্ষকের উপস্থিতিতেই নির্ধারিত নিয়ম মেনে শুরু হয় পরীক্ষা। তার এই লড়াই দেখে হাসপাতালের চিকিৎসক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ — সকলেই আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।
ছেলের এই অবস্থা দেখে নিজেকে সামলাতে পারছিলেন না মা। হাসপাতালেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। একদিকে সন্তানের শারীরিক কষ্ট, অন্যদিকে তার ভবিষ্যতের লড়াই — এই দুইয়ের টানাপোড়েনে মায়ের চোখে জল এলেও ছেলের পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছেন তিনিই। মায়ের সেই অনুপ্রেরণা সম্বল করেই কলম থামতে দেয়নি ওই ছাত্র।
সোনামুখী বি. জে. হাইস্কুল এবং প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সকলেই। প্রশাসনের দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং সংবেদনশীলতা এক ছাত্রের একটি মূল্যবান বছর নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করেছে। অসুস্থ শরীর নিয়ে এই লড়াই কেবল একটি পরীক্ষা নয়, বরং হার না মানার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। হাসপাতালের কর্মীরাও ওই পরীক্ষার্থীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন