নয়াদিল্লি: ভারতীয় সংসদের অন্দরমহলে সংঘাত এখন তুঙ্গে। একদিকে বাজেটের জবাবি ভাষণে রাহুল গান্ধীর একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ, অন্যদিকে তাঁর সাংসদ পদ চিরতরে খারিজ করার লক্ষ্যে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের ‘সাবস্টান্টিভ মোশন’। সব মিলিয়ে দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে এখন টানটান উত্তেজনা।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে একটি বিশেষ প্রস্তাব (সাবস্টান্টিভ মোশন) পেশ করেছেন। তাঁর দাবি, রাহুলের লোকসভার সদস্যপদ তো বাতিল হবেই, সেইসঙ্গে তাঁকে আজীবনের জন্য নির্বাচনে লড়া থেকে নিষিদ্ধ করতে হবে। দুবের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাঁর দাবি, রাহুল গান্ধী বিদেশ সফরের সময় থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম বা কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলিতে ‘সরোস ফাউন্ডেশন’, ‘ইউএসএআইডি’ এবং ‘ফোর্ড ফাউন্ডেশন’-এর মতো সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারতবিরোধী শক্তির সঙ্গে আঁতাত করছেন! তাই তাঁর বিরুদ্ধে কঠোরতম পদক্ষেপ করা উচিত বলেই মনে করেন দুবে।
প্রসঙ্গত, এই সংঘাতের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে গত ১১ ফেব্রুয়ারি বাজেট অধিবেশন চলাকালীন রাহুল গান্ধীর করা কিছু মন্তব্যের পর। রাহুল গান্ধী অভিযোগ তুলেছিলেন, ভারত-আমেরিকা অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে সরকার আসলে ‘ভারত মাতাকে বিক্রি’ করে দিয়েছে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বিতর্কিত দাবিটি ছিল মার্কিন বিনিয়োগকারী জেফরি এপস্টাইনের ফাইল নিয়ে। রাহুল অভিযোগ করেন, এপস্টিন ফাইলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং শিল্পপতি অনিল আম্বানির নাম রয়েছে। এমনকী, তিনি ইঙ্গিত দেন, বড় ধরনের কোনও ‘চাপ’ না থাকলে কোনও প্রধানমন্ত্রী এমন চুক্তিতে সই করতে পারতেন না।
রাহুলের এই আক্রমণকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছে না মোদী সরকার। সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সাফ জানিয়েছেন, রাহুল গান্ধী বাজেট নিয়ে কোনও গঠনমূলক আলোচনা না করে কেবল ‘ভিত্তিহীন ও বন্য অভিযোগ’ তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, সভার কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী কোনও সদস্য অন্য সদস্যের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনতে চাইলে আগে নোটিশ দিতে হয় এবং প্রামাণ্য নথি পেশ করতে হয় — যা রাহুল করেননি। এই কারণেই বিজেপি নেতারা রাহুলের বিরুদ্ধে ‘প্রিভিলেজ মোশন’ বা স্বাধিকার ভঙ্গের নোটিশও আনতে চলেছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নিশিকান্ত দুবের এই ‘সাবস্টান্টিভ মোশন’ আসলে বিরোধী দলনেতার উপর চাপ সৃষ্টির এক বড় কৌশল। সাধারণত ‘প্রিভিলেজ মোশন’ দিয়ে সতর্ক বা সাময়িক বরখাস্ত করা গেলেও, ‘সাবস্টান্টিভ মোশন’ একটি স্বতন্ত্র ও স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব যা সরাসরি মেম্বারশিপ বাতিলের মতো বড় সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, লোকসভার স্পিকার এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন কিনা এবং রাহুল গান্ধী তাঁর এপস্টিন ফাইল সংক্রান্ত দাবির পক্ষে কোনও নথিপত্র পেশ করে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন কিনা। তবে, এই লড়াই যে এখন সংসদীয় গণ্ডি ছাড়িয়ে আইনি ও রাজনৈতিক ময়দানে পৌঁছে গিয়েছে, তা স্পষ্ট।
বিষয় : Rahul Gandhi

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন