কলকাতা: পদ্মাপাড়ে পরিবর্তনের হাওয়া এখন স্পষ্ট। বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে বিপুল জনমতের প্রতিফলন ঘটিয়ে জয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বিএনপি (বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট পার্টি)। আর, এই মাহেন্দ্রক্ষণেই প্রতিবেশী ভারতের অঙ্গরাজ্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উষ্ণ অভিনন্দন বার্তা ঢাকার মসনদে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে মমতার এই শুভেচ্ছাবার্তা কেবল সৌজন্য নয়। বরং, আগামী দিনে দুই বাংলার সুসম্পর্ক বজায় রাখার একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা হিসাবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) ফলাফল স্পষ্ট হতেই সমাজমাধ্যমে সক্রিয় হন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি তিনি আসন্ন রমজানের আগাম শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তবে, নজর কেড়েছে বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে দেওয়া তাঁর বিশেষ সম্বোধন। মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “বাংলাদেশের এই বিপুল জয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই আমার তারেকভাইকে, তাঁর দলকে ও অন্যান্য দলকেও।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘ভাই’ ডাকের মধ্য দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত কৌশলে দুই বাংলার আবেগ এবং সাংস্কৃতিক যোগসূত্রটিকে তুলে ধরেছেন, যা কূটনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলাতে সহায়ক হতে পারে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ দেড় দশক শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে নবান্নের সুসম্পর্ক ছিল সর্বজনবিদিত। তবে, ২০২৪-এর জুলাই আন্দোলনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসে। অন্তর্বর্তী সরকার পেরিয়ে এবার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যখন বিএনপি ক্ষমতায় আসতে চলেছে, তখন পশ্চিমবঙ্গের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ ছিল সম্পর্কের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বার্তায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, শাসক বদলালেও প্রতিবেশী হিসাবে বাংলাদেশের গুরুত্ব কমেনি। ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং ভাষার টান দুই বাংলার মানুষকে আজও একসূত্রে গেঁথে রাখে। মমতা লিখেছেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সুসম্পর্ক আগামী দিনেও বজায় থাকবে।”
তথ্যাভিজ্ঞ মহলের মতে, দুই বাংলার এই মৈত্রীর বার্তার নেপথ্যে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কারণ। প্রথমত, পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতির একটি বড় অংশ বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। দ্বিতীয়ত, দুই দেশের মানুষের মধ্যে যাতায়াত এবং সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান রাজনৈতিক সীমানার ঊর্ধ্বে। এবং তৃতীয়ত, সীমান্তে শান্তিরক্ষা এবং অনুপ্রবেশের মতো সমস্যা সমাধানে দুই সরকারের মধ্যে বোঝাপড়া অপরিহার্য।
হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি-র এই উত্থানকে ভারত সরকারও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সেই আবহে মমতার এই ‘আগাম’ অভিনন্দন এবং সুসম্পর্কের প্রতিশ্রুতি এক অর্থে কেন্দ্রীয় কূটনীতিকেও একটি পথ দেখাতে পারে। যদিও, তিস্তা জলবণ্টন বা সীমান্ত সমস্যার মতো অমীমাংসিত ইস্যুগুলি এখনও ঝুলে রয়েছে। তবুও, নবান্ন এবং ঢাকার মধ্যে এই বন্ধুত্বপূর্ণ আবহাওয়া আগামী দিনে আলোচনার নতুন পথ খুলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের এই জয় এবং কলকাতার তরফে আসা শুভেচ্ছাবার্তা, দুই বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন ভোরের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাঙালির আবেগ আর রাজনীতির বাস্তবতাকে মিলিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলেন, তার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে বাধ্য। অন্তত এমনটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন