পুরুলিয়া: মহারাষ্ট্রের পুণেয় খুন হওয়া পুরুলিয়ার পরিযায়ী শ্রমিক সুখেন মাহাতোর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে বিজেপি শাসিত রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারকে তুলোধোনা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার পুরুলিয়ায় সুখেনের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর অভিষেক স্পষ্ট জানান, মহারাষ্ট্র পুলিশ ব্যবস্থা না নিতে পারলে তদন্তের ভার বাংলার হাতে দেওয়া হোক। বাংলার পুলিশ ৫০ দিনের মধ্যে দোষীদের সাজা নিশ্চিত করবে।
এদিন পুরুলিয়ায় দাঁড়িয়ে এক গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “গত ছয়-আট মাসে ভিনরাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের উপর আক্রমণের একটি ভয়ঙ্কর প্যাটার্ন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। খুন, রাহাজানি যা হচ্ছে, সবই বিজেপিশাসিত রাজ্যে। ওডিশা, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা বা ছত্তিশগড়—সবখানেই একই চিত্র।” তিনি পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, বাংলাতেও ভিন রাজ্যের বহু মানুষ কাজ করেন। কিন্তু, এখানে কারও উপর কখনও অত্যাচার হয় না।
পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোকে আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, “বাংলার টাকা বন্ধ করার জন্য যারা দিল্লিতে তদ্বির করেন, তাঁরা এখন চুপ কেন? মহারাষ্ট্রে বিজেপির সরকার, অথচ ঘরের ছেলে খুন হলেও সাংসদ নীরব।” অভিষেক দাবি করেন, জ্যোতির্ময় মাহাতো যদি সত্যিই কুড়মি সমাজের এবং এই মাটির মানুষের প্রতিনিধি হন, তবে অবিলম্বে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানান।
বাংলায় কাজ নেই বলেই শ্রমিকরা বাইরে যাচ্ছেন — বিরোধীদের এই দীর্ঘকালীন অভিযোগেরও এদিন কড়া জবাব দেন তৃণমূল সাংসদ। তিনি তথ্য দিয়ে জানান, সুখেনরা ২০০৯ সালে বাম আমলে কাজের সন্ধানে রাজ্য ছেড়েছিলেন। সারা ভারতবর্ষের প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ জীবিকার প্রয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছেন। যা কিনা দেশের সার্বিক কর্মসংস্থান সঙ্কটের প্রতিফলন।
সুখেন মাহাতোর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি অভিষেক বড় কিছু ঘোষণা করেন। প্রথমত, তৃণমূল কংগ্রেস পুরো ঘটনার আইনি লড়াই লড়বে। প্রয়োজনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মহারাষ্ট্রে একটি প্রতিনিধিদল পাঠানো হবে। দ্বিতীয়ত, সুখেনের দুই ভাইকে বাংলাতেই কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। যাতে তাঁদের আর ঘর ছেড়ে বাইরে যেতে না হয়। এবং তৃতীয়ত, এই ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার বেলা ৩টে থেকে ৪টে পর্যন্ত পুরুলিয়ার প্রতিটি ব্লক টাউনে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছেন অভিষেক।
উল্লেখ্য, গত বুধবার পুণের কোরেগাঁও ভিমা এলাকা থেকে ৩১ বছর বয়সী সুখেনের দেহ উদ্ধার হয়। তৃণমূলের দাবি, ‘বাংলায় কথা বলার অপরাধে’ তাঁকে খুন করা হয়েছে। যদিও মহারাষ্ট্র পুলিশ এই দাবি অস্বীকার করে ব্যক্তিগত বচসার কথা বলছে। কিন্তু, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বাংলার শ্রমিকের রক্ত ঝরলে নবান্ন চুপ করে বসে থাকবে না।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন