নয়াদিল্লি: ভারতের জাতীয় প্রশাসনিক কাঠামোয় রচিত হল এক নতুন ইতিহাস। স্বাধীনতার পর এই প্রথম স্থায়ীভাবে বদলে গেল প্রধানমন্ত্রীর দফতরের (PMO) ঠিকানা। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উদ্বোধন করলেন অত্যাধুনিক প্রশাসনিক কমপ্লেক্স ‘সেবা তীর্থ’। নতুন এই কর্মস্থল থেকেই জনসেবা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে চারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বড় সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে দিল্লির সেন্ট্রাল ভিস্তা অঞ্চলের বিভিন্ন পুরোনো ভবনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মন্ত্রকগুলিকে এখন এক ছাদের তলায় আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন করা এই সমন্বিত কমপ্লেক্সের বৈশিষ্ট্যগুলি হল - পিএমও কাজ করবে ‘সেবা তীর্থ–১’ থেকে। এছাড়া, ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সেক্রেটারিয়েট (সেবা তীর্থ–২) এবং ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েট (সেবা তীর্থ–৩) একই চত্বরে স্থানান্তরিত হয়েছে। এর ফলে কৌশলগত সমন্বয় আরও জোরদার হবে।
এদিন ‘কর্তব্য ভবন–১’ ও ‘কর্তব্য ভবন–২’-এরও উদ্বোধন করা হয়। এখান থেকেই অর্থ, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, আইন এবং তথ্য ও সম্প্রচারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক পরিচালিত হবে। প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হ্রাস এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এই নতুন পরিকাঠামোর লক্ষ্য।
‘সেবা তীর্থ’-এ স্থানান্তরের পর প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী চারটি জনকল্যাণমুখী ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ অনুমোদন করেছেন। যথা -
১. ‘পিএম রাহাত’ প্রকল্পের সূচনা: সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এ প্রাণরক্ষা করতে এই নগদহীন (Cashless) চিকিৎসা প্রকল্পের সূচনা করা হয়েছে। এর আওতায় আহত ব্যক্তিরা সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার সুবিধা পাবেন। যাতে অর্থের অভাবে জরুরি চিকিৎসা ব্যাহত না হয়।
২. ‘লাখপতি দিদি’ লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি: মহিলা স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রে এক অভাবনীয় সাফল্যের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। ২০২৭ সালের মার্চের আগেই ৩ কোটি ‘লাখপতি দিদি’-র লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে যাওয়ায়, নতুন লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। ২০২৯ সালের মার্চের মধ্যে ৬ কোটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলার বছরে অন্তত ১ লক্ষ টাকা আয় নিশ্চিত করার টার্গেট নিয়েছে সরকার।
৩. কৃষি পরিকাঠামোয় দ্বিগুণ বরাদ্দ: কৃষিপণ্যের অপচয় রোধ ও গুদামজাতকরণের সুবিধার্থে ‘এগ্রিকালচার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড’-এর পরিমাণ ১ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লক্ষ কোটি টাকা করা হয়েছে। কোল্ড স্টোরেজ ও প্রসেসিং ইউনিট তৈরিতে এই অর্থ ব্যয় হবে।
৪. স্টার্টআপ ইন্ডিয়া ফান্ড ২.০: নতুন প্রজন্মের স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে মূলধনের জোগান দিতে ১০ হাজার কোটি টাকার ‘ফান্ড অব ফান্ডস ২.০’-এর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি মূলত ডিপ-টেক এবং উন্নত উৎপাদন ক্ষেত্রগুলিতে বিনিয়োগে সহায়তা করবে।
কেন্দ্রীয় সূত্রের মতে, নতুন প্রশাসনিক ভবন ‘সেবা তীর্থ’ থেকে নেওয়া এই সিদ্ধান্তগুলিই স্পষ্ট করে দিচ্ছে, তৃণমূলস্তরের ক্ষমতায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সক্ষমতা গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন