নয়াদিল্লি: বিধানসভা নির্বাচন কড়া নাড়ছে দোরগোড়ায়। এই আবহে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উত্তরবঙ্গের পাহাড়ের সমীকরণ ফের বদলাতে শুরু করেছে। অস্তিত্বের লড়াইয়ে থাকা বিমল গুরুংয়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চাকে সঙ্গে নিয়েই কি বৈতরণী পার হতে চাইছে বিজেপি? বৃহস্পতিবার রাতে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বিমল গুরুং এবং রোশন গিরির বৈঠক সেই জল্পনাকেই উস্কে দিল।
দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তার উপস্থিতিতে সংসদীয় কার্যালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন মোর্চা প্রধান বিমল গুরুং। যদিও সাংসদ রাজু বিস্তা এই নিয়ে সরাসরি মুখ খোলেননি, তবে রাজনৈতিক মহলের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ে বিজেপির জয়ের পথ প্রশস্ত করতেই এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক। বৈঠকে মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। সেগুলি হল - পাহাড়ি সমস্যার স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান। ১১টি জনজাতিকে ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করা। এবং আসন্ন নির্বাচনে আসন সমঝোতা।
রাজনৈতিক সূত্রের খবর, পাহাড়ের তিনটি আসনের মধ্যে কালিম্পং আসনটি থেকে খোদ বিমল গুরুং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক। বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বকে সেই ইচ্ছার কথা ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে। তবে, এই সমীকরণে নতুন জট পাকিয়েছে পাহাড়ের অন্য দুই শক্তি — অজয় এডওয়ার্ডের হামরো পার্টি (ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্ট) এবং জিএনএলএফ (GNLF)।
সূত্রের দাবি, অজয় এডওয়ার্ড ঘনিষ্ঠ মহলে দার্জিলিং আসনে লড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আবার, নীরজ জিম্বা দার্জিলিং ছেড়ে কার্শিয়াং থেকে প্রার্থী হতে চান। কিন্তু, বিজেপি তাদের জেতা আসন কার্শিয়াং আদৌ শরিকদের ছাড়বে কিনা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গিয়েছে। বিতর্ক এড়াতে আপাতত মৌনব্রত অবলম্বন করেছেন এডওয়ার্ড ও জিম্বা।
এই বৈঠককে কেন্দ্র করে বিজেপি ও মোর্চাকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে অনীত থাপার দল ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা। দলের মুখপাত্র শক্তিপ্রসাদ শর্মার খোঁচা, “পৃথক গোর্খাল্যান্ডের নামে অশান্তি ছড়িয়ে এখন বিমল গুরুংরা অস্তিত্ব সঙ্কটে ভুগছেন। গত পঞ্চায়েত ও পুরসভা নির্বাচনে মানুষ তাঁদের প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন বিধানসভা ভোটের আগে স্রেফ ফাটকা খেলতে দিল্লিতে গিয়েছেন তাঁরা।”
মনে করা হচ্ছে, পাহাড়ে লোকসভা ভোটে বিজেপি সফল হলেও বিধানসভায় অনীত থাপার শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই বেশ কঠিন। সেই পরিস্থিতিতে পুরনো জোটসঙ্গী বিমল গুরুংয়ের উপর ভরসা করা ছাড়া বিজেপির কাছে দ্বিতীয় পথ নেই বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কিন্তু আসন রফা নিয়ে শরিক দলগুলির মধ্যে যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে, তা মেটানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন