ভাঙড়: শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে মনের জোরের কাছে তুচ্ছ, তার জীবন্ত উদাহরণ দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের সাহানাজ মোল্লা। জন্ম থেকেই যার দুটি হাত নেই, পায়ের গঠনও স্বাভাবিক নয়— সেই সাহানাজই এখন ভাঙড় ২ ব্লকের আলাকুইলিয়া গ্রামের গর্ব। সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে পা দিয়েই উচ্চ মাধ্যমিকের (একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার) পরীক্ষা দিচ্ছে এই কিশোরী।
কারবালা হাই স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী সাহানাজ। গত বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় ২৬১ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিল সে। ছোটবেলা থেকেই মা বিলকিস বেগম ছিলেন সাহানাজের ছায়াসঙ্গী। মায়ের হাত ধরেই পা দিয়ে অক্ষর ফুটিয়ে তোলা এবং নিখুঁত ছবি আঁকা রপ্ত করেছে সে। বর্তমানে পরীক্ষার হলে পা দিয়ে সাবলীলভাবে লিখতে দেখে অবাক হচ্ছেন শিক্ষক থেকে সহপাঠীরা।
সাহানাজ জানায়, “একটু হাঁটাচলা করলেই শ্বাসকষ্ট হয়। বেশিক্ষণ বসে থাকতে পারি না। তবুও চাই পরীক্ষায় ভালো ফল করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে, যাতে বাবা-মায়ের কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়।” অবসরে পা দিয়ে আঁকা সুন্দর সব ছবির ভিডিও রিল বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে সাহানাজ। তার আশা, যদি সেখান থেকে কিছু আয় হয়, তবে পড়াশোনার খরচ জোগাতে সুবিধা হবে।
বাবা কুতুবুদ্দিন মোল্লা একটি ব্যাগ কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন। নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে মেয়ের চিকিৎসা আর পড়াশোনার খরচ চালানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, “জন্ম থেকেই নানা সমস্যায় ভুগছে মেয়ে। অনেক চিকিৎসা করেও ফল মেলেনি।” তবে কারবালা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু তোহা মণ্ডলের কথায়, “সাহানাজ আমাদের স্কুলের গর্ব। ওর দৃঢ় মানসিকতা সত্যিই শিক্ষণীয়।”
শারীরিক অক্ষমতাকে অজুহাত না বানিয়ে, সমাজ ও পরিবারের বোঝা না হয়ে নিজের লক্ষ্যে স্থির ভাঙড়ের এই লড়াকু মেয়ে। সাহানাজের এই লড়াই এখন এলাকার বহু ছাত্রছাত্রীর কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিষয় : Higher Secondery 2026 Bhangar

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন