Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

‘এক দেশে দুই নিয়ম কেন?’ ফ্যামিলি রেজিস্টার ইস্যুতে কমিশনকে ‘তুঘলকি’ তোপ মমতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
‘এক দেশে দুই নিয়ম কেন?’ ফ্যামিলি রেজিস্টার ইস্যুতে কমিশনকে ‘তুঘলকি’ তোপ মমতার

কলকাতা: বাংলার ভোটারতালিকা সংশোধন ও এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সংঘাত এবার চরমে। মঙ্গলবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মূল প্রশ্ন — বিহারের ক্ষেত্রে যে নথি গ্রাহ্য হচ্ছে, বাংলার ক্ষেত্রে সেই একই নথিতে কমিশনের আপত্তি কেন? এই দ্বিচারিতাকে 'সর্বনাশী খেলা' বলে অভিহিত করেছেন তিনি।


মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিহার ও বাংলার এসআইআর প্রক্রিয়ার ভিন্নতা। বিহারে ভোটারতালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় 'ফ্যামিলি রেজিস্টার' বা পারিবারিক নথিকে বৈধ প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। মমতার দাবি, বাংলায় সেই একই নথি দেখাতে গেলে তা খারিজ করে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, "বিহারে ফ্যামিলি রেজিস্টার গ্রাহ্য হলে বাংলায় নয় কেন? এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিহারের ক্ষেত্রে এক নিয়ম, বাংলার ক্ষেত্রে আলাদা কেন?"


নির্বাচন কমিশনের কাজকর্মকে মধ্যযুগীয় খামখেয়ালিপনার সঙ্গে তুলনা করে মুখ্যমন্ত্রী একে ‘তুঘলকি কমিশন’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর অভিযোগ, কমিশন বর্তমানে একটি ‘ক্যাপচার কমিশন’-এ পরিণত হয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করছে। হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে যা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সঠিক নিয়ম-নীতি না মেনে কমিশন কেবল একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের (বিজেপি) স্বার্থসিদ্ধি করছে।


সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়ার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটারতালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা। দিন কয়েক আগেই শুনানির কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু, তার পদ্ধতি নিয়ে সন্তুষ্ট নন তৃণমূল সুপ্রিমো।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ভোটারতালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া বা নথি সংক্রান্ত এই জটিলতা সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর, সেই কারণেই তিনি বিষয়টিকে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেও নিয়ে এলেন।


নির্বাচন কমিশনের মতো একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার বিরুদ্ধে ‘ক্যাপচার’ হওয়ার অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিলেন যে - ভোটারতালিকা সংশোধন নিয়ে লড়াই তিনি ছাড়বেন না। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর এই সংঘাত কোন পথে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

বিষয় : Mamata Banerjee

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


‘এক দেশে দুই নিয়ম কেন?’ ফ্যামিলি রেজিস্টার ইস্যুতে কমিশনকে ‘তুঘলকি’ তোপ মমতার

প্রকাশের তারিখ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
কলকাতা: বাংলার ভোটারতালিকা সংশোধন ও এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সংঘাত এবার চরমে। মঙ্গলবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মূল প্রশ্ন — বিহারের ক্ষেত্রে যে নথি গ্রাহ্য হচ্ছে, বাংলার ক্ষেত্রে সেই একই নথিতে কমিশনের আপত্তি কেন? এই দ্বিচারিতাকে 'সর্বনাশী খেলা' বলে অভিহিত করেছেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিহার ও বাংলার এসআইআর প্রক্রিয়ার ভিন্নতা। বিহারে ভোটারতালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় 'ফ্যামিলি রেজিস্টার' বা পারিবারিক নথিকে বৈধ প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। মমতার দাবি, বাংলায় সেই একই নথি দেখাতে গেলে তা খারিজ করে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, "বিহারে ফ্যামিলি রেজিস্টার গ্রাহ্য হলে বাংলায় নয় কেন? এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিহারের ক্ষেত্রে এক নিয়ম, বাংলার ক্ষেত্রে আলাদা কেন?"নির্বাচন কমিশনের কাজকর্মকে মধ্যযুগীয় খামখেয়ালিপনার সঙ্গে তুলনা করে মুখ্যমন্ত্রী একে ‘তুঘলকি কমিশন’ বলে কটাক্ষ করেন। তাঁর অভিযোগ, কমিশন বর্তমানে একটি ‘ক্যাপচার কমিশন’-এ পরিণত হয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করছে। হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে যা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সঠিক নিয়ম-নীতি না মেনে কমিশন কেবল একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের (বিজেপি) স্বার্থসিদ্ধি করছে।সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে বাংলায় এসআইআর প্রক্রিয়ার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটারতালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা। দিন কয়েক আগেই শুনানির কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু, তার পদ্ধতি নিয়ে সন্তুষ্ট নন তৃণমূল সুপ্রিমো।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ভোটারতালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া বা নথি সংক্রান্ত এই জটিলতা সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর, সেই কারণেই তিনি বিষয়টিকে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেও নিয়ে এলেন।নির্বাচন কমিশনের মতো একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার বিরুদ্ধে ‘ক্যাপচার’ হওয়ার অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিলেন যে - ভোটারতালিকা সংশোধন নিয়ে লড়াই তিনি ছাড়বেন না। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর এই সংঘাত কোন পথে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার