একদা ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তিনি। বামেদের সেই তরুণ তুর্কি প্রতীক-উর রহমানের তৃণমূলে যোগদানের জল্পনা এখন তুঙ্গে। কিন্তু জানেন কি, যার হাতে ঘাসফুলের ঝাণ্ডা ওঠার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল, তাঁর সম্পত্তির খতিয়ান ঠিক কতটা? হলফনামা অনুযায়ী, প্রাক্তন এই এসএফআই নেতার আয়ের খাতা কার্যত শূন্য। নেই কোনো বিলাসবহুল গাড়ি কিংবা প্রাসাদোপম বাড়ি। দলীয় ভাতার ওপর নির্ভর করেই চলে তাঁর সংসার।
ডায়মন্ড হারবারের ফকিরচাঁদ কলেজের ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা প্রতীক-উর রহমান একসময় সিপিএমের অত্যন্ত ভরসার মুখ ছিলেন। এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব সামলানো ৩৬ বছর বয়সী এই নেতার সম্পত্তির পরিমাণ জানলে অবাক হতে হয়। গত লোকসভা নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী, প্রতীক উরের আয়ের কোনো নির্দিষ্ট উৎস নেই। বিগত পাঁচ বছরে কোনো আয়ের হিসেব তিনি দিতে পারেননি। এমনকি তাঁর স্ত্রী সিরিন সুলতানারও কোনো আয়ের কথা উল্লেখ নেই। হলফনামা জমা দেওয়ার সময় দু’জনের হাতেই নগদ ছিল মাত্র ১০০০ টাকা করে।
সম্পত্তি বলতে প্রতীক উরের দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে রয়েছে ৬ লক্ষ ২৬ হাজার টাকার কিছু বেশি, যার একটি বড় অংশ তিনি নির্বাচনের কাজের জন্য রেখেছিলেন। কোনো বীমা, পলিসি বা মূল্যবান ধাতু তাঁর নামে নেই। তাঁর স্ত্রীর কাছে প্রায় দেড় লক্ষ টাকার সোনা থাকলেও প্রতীকের কোনো সোনা নেই। নেই কোনো জমিও। হলফনামায় নিজেকে সমাজকর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এই নেতার কোনো ঋণও নেই। পারিবারিক ব্যবসা থাকলেও প্রতীক নিজেকে পুরোপুরি রাজনীতির কাজেই সঁপে দিয়েছিলেন, যার পারিশ্রমিক হিসেবে মিলত সামান্য দলীয় ভাতা। এখন প্রশ্ন উঠছে, বামেদের সেই ‘সর্বহারা’ সৈনিক কি এবার তৃণমূলে যোগ দিয়ে মগরাহাটের টিকিট পেয়ে নতুন রাজনৈতিক ইনিংস শুরু করবেন? উত্তরের অপেক্ষায় গোটা বাংলা।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন