বেঙ্গালুরুতে এক সত্তর বছরের বৃদ্ধাকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় শিউরে উঠছে গোটা দেশ। শ্বাসরোধ করার পর গলা কেটে খুন করা হয়েছে শোভা নামে এক বৃদ্ধাকে। অথচ সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই গোটা ঘটনা যখন ঘটছে, তখন তাঁর পাশেই শুয়ে ছিলেন তাঁর স্বামী রঙ্গনাথ। কিন্তু স্ত্রীর মৃত্যুযন্ত্রণা টের পাননি তিনি।
বেঙ্গালুরুর নীলামঙ্গলা এলাকার হীরাপুরে বাস করতেন নিঃসন্তান এই দম্পতি। স্বামী রঙ্গনাথ গত ১৫ বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন এবং অসুস্থ। বুধবার সকালে প্রতিদিনের মতো স্বামীকে নিয়ে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন শোভা। বাড়ি ফিরে দু’জনে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। যথাসময়ে রঙ্গনাথের থেরাপির জন্য এক চিকিৎসক বাড়িতে পৌঁছলে দেখেন সদর দরজা খোলা। ভেতরে ঢুকে তিনি দেখেন, বিছানা রক্তে ভেসে যাচ্ছে আর গলার নলি কাটা অবস্থায় পড়ে রয়েছেন শোভা। তাঁর পাশেই অঘোরে ঘুমোচ্ছিলেন অসুস্থ রঙ্গনাথ।
তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করে প্রতিবেশী যুবক শিবকুমারকে। জেরায় সে স্বীকার করেছে, ঋণের দায়ে ডুবে থাকায় সে এই চুরির পরিকল্পনা করেছিল। শোভার শরীরে থাকা সোনার গয়না হাতানোই ছিল তার মূল লক্ষ্য। জল খাওয়ার অছিলায় সে ওই বাড়িতে ঢোকে এবং শোভা বাধা দিলে তাঁকে শ্বাসরোধ করে গলা কেটে খুন করে প্রায় ১০০ গ্রাম সোনার গয়না নিয়ে চম্পট দেয়। পুলিশ শিবকুমারের কাছ থেকে সেই গয়নাগুলো উদ্ধার করেছে।
নিঃসন্তান এক বৃদ্ধ দম্পতির এই অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে এমন নৃশংসতা ভাবিয়ে তুলছে সবাইকে। অসুস্থ স্বামীর চোখের সামনেই চলে গেলেন তাঁর দীর্ঘদিনের অবলম্বন।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন