পশ্চিম মেদিনীপুর: সরকারি প্রকল্পে রাজনৈতিক দলের ছাপ এবং সেই নিয়ে প্রশ্ন তোলায় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ— এই দুই ঘটনায় রণক্ষেত্রের চেহারা নিল পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা ৩ নম্বর ব্লক। প্রশাসনের 'উন্নয়নের পাঁচালি' প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দানা বেঁধেছে এই তীব্র বিতর্ক।
অভিযোগ উঠেছে, গড়বেতা ৩ নম্বর ব্লকের বিভিন্ন সরকারি দেওয়ালে ও ফ্লেক্সে এই প্রকল্পের যে লোগো ব্যবহার করা হয়েছে, তাতে অত্যন্ত সুকৌশলে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ‘জোড়া ফুল’ প্রতীকটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সরকারি কোষাগারের টাকায় চলা প্রকল্পে কীভাবে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতীক ব্যবহৃত হতে পারে, তা নিয়ে স্থানীয় স্তরে গুঞ্জন শুরু হয়।
এই বিতর্কিত লোগো নিয়ে প্রতিক্রিয়া নিতে গেলে মেজাজ হারান স্থানীয় এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা। সাংবাদিকরা যখন লোগো এবং দলীয় প্রতীকের সাদৃশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন ওই নেতা চিৎকার শুরু করেন এবং সাংবাদিকদের ‘দালাল’ বলে তোপ দাগেন। এমনকি আঙুল উঁচিয়ে সরাসরি শাসানি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এই ঘটনায় জেলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিজেপি জেলা নেতৃত্বের দাবি, "এটা তৃণমূলের চরম দেউলিয়াপনা। প্রশাসনকে তারা নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছে।" অন্যদিকে বাম শিবিরের মতে, মানুষের করের টাকায় দলের প্রচার চলছে; বিডিও-র উচিত অবিলম্বে এই বেআইনি লোগো সরিয়ে নেওয়া।
প্রশাসনের আধিকারিকরা এই ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন। ক্যামেরার সামনে মুখ না খুললেও, এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন যে লোগোর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে সাংবাদিকের সঙ্গে নেতার এই অশালীন আচরণ যে প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করেছে, তা মানছেন ওয়াকিবহাল মহল।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন