Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

৯ কোটি চাকরি কি সত্যিই কাড়বে এআই? আশঙ্কার মেঘের আড়ালে ১৭ কোটি কাজের দিশা দেখালেন ইনফোসিস কর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৯ কোটি চাকরি কি সত্যিই কাড়বে এআই? আশঙ্কার মেঘের আড়ালে ১৭ কোটি কাজের দিশা দেখালেন ইনফোসিস কর্তা

বেঙ্গালুরু: কৃত্রিম মেধা বা এআই (AI) কি তবে মানুষের রুটিরুজিতে টান দেবে? বিশ্বজুড়ে এই হাহাকারের মাঝেই বিস্ফোরক ও আশাব্যঞ্জক— দুই ধরনের দাবিই করলেন ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি জগতের অন্যতম নক্ষত্র তথা ইনফোসিস চেয়ারম্যান নন্দন নীলেকণি। বেঙ্গালুরুতে ‘এআই ইনভেস্টর ডে ২০২৬’-এ তিনি সাফ জানিয়েছেন, এআই-এর এই প্রবল ঢেউয়ে ভারত-সহ বিশ্বের প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বড়সড় ওলটপালট হতে চলেছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বর্তমান বিশ্বের অন্তত ৯ কোটি চাকরি এই মুহূর্তে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। নীলেকণির মতে, এই প্রযুক্তিই আবার নতুন করে অন্তত ১৭ কোটি কর্মসংস্থানের দরজা খুলে দেবে।


ইনফোসিস কর্তার এই বিশ্লেষণ ইন্টারনেটে কার্যত ঝড় তুলেছে। তিনি মনে করেন, যে সব পেশাদাররা এতদিন ফ্রন্ট-এন্ড ডেভেলপার, আইটি সাপোর্ট বা ব্লকচেইন ডেভেলপার হিসেবে কাজ করে এসেছেন, তাঁদের প্রাসঙ্গিকতা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এমনকি মাইক্রোসফ্‌টের এআই প্রধান মুস্তাফা সুলেমান বা অধ্যাপক রোমান ইয়াম্পোলস্কির মতো বিশেষজ্ঞরা আরও একধাপ এগিয়ে দাবি করেছেন, শুধু কোডার নয়, আইনজীবী বা হিসাবরক্ষকদের মতো ‘হোয়াইট কলার’ চাকরিও ২০২৭ সালের পর ব্যাপক সংকটের মুখে পড়বে। মানুষের চেয়েও নির্ভুল ভাবে কাজ করার ক্ষমতা নিয়ে আসছে ‘আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স’ (AGI), যা চাকরির বাজারকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।


তবে অন্ধকারের মধ্যেও আলোর পথ দেখাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, পুরোনো ধাঁচের কোডিং বা ডেটা এন্ট্রির দিন শেষ হলেও আসছে নতুন পাঁচ ধরনের পেশা। যেখানে ‘এআই ইঞ্জিনিয়ার’দের কাজ হবে উন্নত ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল তৈরি করা, তেমনই ‘এআই ফরেন্সিক অ্যানালিস্ট’রা রুখবেন ডিজিটাল জালিয়াতি। এছাড়াও ‘ফরোয়ার্ড ডেপ্লয়েড ইঞ্জিনিয়ার’, ‘এজেন্টিক ওয়ার্কফ্লো আর্কিটেক্ট’ এবং ‘ডেটা অ্যানোটেটর’ হিসেবে লক্ষ লক্ষ কর্মীর চাহিদা তৈরি হবে বাজারে। বড় বড় সংস্থাগুলি এখন তাদের বাজেটের সিংহভাগ খরচ করছে পুরোনো সিস্টেমকে এআই-বান্ধব করে তুলতে।


বিশেষজ্ঞদের সাফ কথা, ভবিষ্যতে কোড লেখা আর কারও একমাত্র লক্ষ্য থাকবে না, বরং গুরুত্ব পাবে কারিগরি পরিচ্ছন্নতা ও এআই-কে পরিচালনার দক্ষতা। তাই চাকরি হারানোর ভয় না পেয়ে নিজেকে নতুন প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলাই হবে তরুণ প্রজন্মের আসল হাতিয়ার। আগামীর পৃথিবী হবে এআই বনাম মানুষ নয়, বরং ‘এআই-সহ মানুষ’-এর।

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


৯ কোটি চাকরি কি সত্যিই কাড়বে এআই? আশঙ্কার মেঘের আড়ালে ১৭ কোটি কাজের দিশা দেখালেন ইনফোসিস কর্তা

প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
বেঙ্গালুরু: কৃত্রিম মেধা বা এআই (AI) কি তবে মানুষের রুটিরুজিতে টান দেবে? বিশ্বজুড়ে এই হাহাকারের মাঝেই বিস্ফোরক ও আশাব্যঞ্জক— দুই ধরনের দাবিই করলেন ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি জগতের অন্যতম নক্ষত্র তথা ইনফোসিস চেয়ারম্যান নন্দন নীলেকণি। বেঙ্গালুরুতে ‘এআই ইনভেস্টর ডে ২০২৬’-এ তিনি সাফ জানিয়েছেন, এআই-এর এই প্রবল ঢেউয়ে ভারত-সহ বিশ্বের প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বড়সড় ওলটপালট হতে চলেছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বর্তমান বিশ্বের অন্তত ৯ কোটি চাকরি এই মুহূর্তে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। নীলেকণির মতে, এই প্রযুক্তিই আবার নতুন করে অন্তত ১৭ কোটি কর্মসংস্থানের দরজা খুলে দেবে।ইনফোসিস কর্তার এই বিশ্লেষণ ইন্টারনেটে কার্যত ঝড় তুলেছে। তিনি মনে করেন, যে সব পেশাদাররা এতদিন ফ্রন্ট-এন্ড ডেভেলপার, আইটি সাপোর্ট বা ব্লকচেইন ডেভেলপার হিসেবে কাজ করে এসেছেন, তাঁদের প্রাসঙ্গিকতা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। এমনকি মাইক্রোসফ্‌টের এআই প্রধান মুস্তাফা সুলেমান বা অধ্যাপক রোমান ইয়াম্পোলস্কির মতো বিশেষজ্ঞরা আরও একধাপ এগিয়ে দাবি করেছেন, শুধু কোডার নয়, আইনজীবী বা হিসাবরক্ষকদের মতো ‘হোয়াইট কলার’ চাকরিও ২০২৭ সালের পর ব্যাপক সংকটের মুখে পড়বে। মানুষের চেয়েও নির্ভুল ভাবে কাজ করার ক্ষমতা নিয়ে আসছে ‘আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স’ (AGI), যা চাকরির বাজারকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।তবে অন্ধকারের মধ্যেও আলোর পথ দেখাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, পুরোনো ধাঁচের কোডিং বা ডেটা এন্ট্রির দিন শেষ হলেও আসছে নতুন পাঁচ ধরনের পেশা। যেখানে ‘এআই ইঞ্জিনিয়ার’দের কাজ হবে উন্নত ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল তৈরি করা, তেমনই ‘এআই ফরেন্সিক অ্যানালিস্ট’রা রুখবেন ডিজিটাল জালিয়াতি। এছাড়াও ‘ফরোয়ার্ড ডেপ্লয়েড ইঞ্জিনিয়ার’, ‘এজেন্টিক ওয়ার্কফ্লো আর্কিটেক্ট’ এবং ‘ডেটা অ্যানোটেটর’ হিসেবে লক্ষ লক্ষ কর্মীর চাহিদা তৈরি হবে বাজারে। বড় বড় সংস্থাগুলি এখন তাদের বাজেটের সিংহভাগ খরচ করছে পুরোনো সিস্টেমকে এআই-বান্ধব করে তুলতে।বিশেষজ্ঞদের সাফ কথা, ভবিষ্যতে কোড লেখা আর কারও একমাত্র লক্ষ্য থাকবে না, বরং গুরুত্ব পাবে কারিগরি পরিচ্ছন্নতা ও এআই-কে পরিচালনার দক্ষতা। তাই চাকরি হারানোর ভয় না পেয়ে নিজেকে নতুন প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তোলাই হবে তরুণ প্রজন্মের আসল হাতিয়ার। আগামীর পৃথিবী হবে এআই বনাম মানুষ নয়, বরং ‘এআই-সহ মানুষ’-এর।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার