কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে রাজ্যের সর্বোচ্চ সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’ গ্রহণ করার পর থেকেই তাঁকে নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক জল্পনা। তবে, সেই জল্পনায় জল ঢেলে দিলেন রাজবংশী নেতা তথা বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ নিজেই। সম্মান পেয়ে আপ্লুত হলেও, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তিনি আপাতত নাকচ করে দিয়েছেন।
পুরস্কার পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে অনন্ত মহারাজ বলেন, "রাজ্য সরকার আমার কথা ভেবেছে। এটা ভেবেই ভালো লাগছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজের হাতে আমাকে এই সম্মান দিয়েছেন। সত্যি বলতে, আমি কখনও ভাবিনি যে এই পুরস্কার পাব। আমি খুবই খুশি।"
রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরেও নিজের সামাজিক ও সাহিত্যিক কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন মহারাজ। তিনি জানান, পর্দার আড়ালে থেকে তিনি রাজবংশী সমাজ ও সংস্কৃতির উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন। তাঁর কথায়, তিনি রাজবংশী সমাজ ও তাঁদের রীতিনীতি নিয়ে একটি বই লিখেছেন। পাশাপাশি, নিয়মিত হিন্দি কবিতা চর্চা করেন। এমনকী, প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ জন দুঃস্থ মেধাবী ছাত্রছাত্রীকে আইনজীবী হতে সাহায্য করেছেন। এবং বর্তমানে ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থীকে আইএএস ও আইপিএস পরীক্ষার জন্য বিনামূল্যে কোচিং করাচ্ছেন।
শনিবার কলকাতায় একুশের মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে বসা এবং সম্মান গ্রহণ কি দলবদলের ইঙ্গিত? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে সপাট জবাব দেন বিজেপি সাংসদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "মুখ্যমন্ত্রীর সাথে আমার কোনও রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি। আমি কি অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছি? এই বিষয়ে আমার কোনও আগ্রহই নেই।"
রাজবংশী ভোটের অঙ্কে অনন্ত মহারাজ উত্তরবঙ্গের রাজনীতির এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। তাঁর এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিল, রাজ্যের প্রদান করা সম্মান গ্রহণ করলেও রাজনৈতিকভাবে তিনি এখনই বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ঘাসফুল শিবিরে ভিড়ছেন না।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন