আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্ত ফের রণক্ষেত্রের চেহারা নিল। শনিবার গভীর রাতে আফগানিস্তানের নাঙ্গারহার এবং পাকটিকা প্রদেশে অতর্কিত বিমান হামলা চালাল পাক সেনা। এই হামলায় শিশু ও মহিলা-সহ অন্তত ১৭ জন আফগান নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তালিবান সরকার এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের সাফ কথা, পাক সেনার এই অনধিকার প্রবেশের যোগ্য জবাব দেওয়া হবে এবং সেই প্রত্যাঘাত এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
আফগান সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, শনিবার মাঝরাতে যখন সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, তখনই আকাশসীমা লঙ্ঘন করে পাক যুদ্ধবিমানগুলি হানা দেয়। নিরীহ নাগরিকদের ওপর আছড়ে পড়ে ‘মৃত্যুবাণ’। প্রাণহানির পাশাপাশি বহু ঘরবাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং সেখানে আরও অনেকের চাপা পড়ে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে পাকিস্তান এই হামলাকে ‘টারগেটেড স্ট্রাইক’ বলে দাবি করেছে। পাক তথ্য মন্ত্রকের একটি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং ইসলামিক স্টেটের মতো সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো আফগান ভূখণ্ডে ঘাঁটি গেড়ে পাকিস্তানে নাশকতার ছক কষছিল। তালিবান সরকারকে বারবার জানিয়েও কোনো ফল না হওয়ায় বাধ্য হয়েই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
অন্যদিকে, তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, নিজেদের দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়ে পাকিস্তান এখন নিরীহ আফগানদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। এই হামলা শুধু অমানবিক নয়, বরং আন্তর্জাতিক সার্বভৌমত্বেরও পরিপন্থী। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে তালিবান কাবুলের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে তিক্ততা বেড়েছে। সাম্প্রতিক এই বিমান হামলা সেই সংঘাতের আগুনে ঘি ঢালল বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন