নয়াদিল্লি ও তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা! ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চরম উত্তেজনা এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার প্রেক্ষিতে সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের জন্য চূড়ান্ত সতর্কতা (Advisory) জারি করল তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) জারি করা এই বিজ্ঞপ্তিতে ভারতীয় নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ইরানে বর্তমান পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে। এই অবস্থায় সেখানে থাকা ভারতীয় ছাত্র, তীর্থযাত্রী, পর্যটক এবং ব্যবসায়ীদের উপলব্ধ যে কোনও উপায়ে (বাণিজ্যিক বিমানসহ) ইরান ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে গত ৫ জানুয়ারি এবং ১৪ জানুয়ারিও একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
যাঁরা এই মুহূর্তে ইরানে রয়েছেন, তাঁদের পাসপোর্ট, আইডি কার্ড এবং অভিবাসন সংক্রান্ত যাবতীয় প্রয়োজনীয় নথি হাতের কাছে প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে ভারতীয় দূতাবাসের তরফে। পাশাপাশি, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে নজর রাখা এবং যে কোনও ধরনের জমায়েত বা প্রতিবাদ কর্মসূচি এড়িয়ে চলার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইরানে থাকাকালীন কোনও বিপদ বা সমস্যায় পড়া ভারতীয়দের সহায়তায় চারটি জরুরি মোবাইল নম্বর ও ইমেল আইডিও প্রকাশ করেছে দূতাবাস। এগুলি হল -
হেল্পলাইন নম্বর: +989128109115, +989128109109, +989128109102, +989932179359।
ইমেল: cons.tehran@mea.gov.in
এছাড়াও, যে সমস্ত ভারতীয় এখনও দূতাবাসের খাতায় নাম নথিভুক্ত করাননি, তাঁদের দ্রুত https://www.meaers.com/request/home লিঙ্কে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে বলা হয়েছে। ইরানে ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হলে ভারতে থাকা তাঁদের পরিবারকেই এই কাজ সম্পূর্ণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তথ্যাভিজ্ঞ মহল বলছে, পশ্চিম এশিয়ায় ঘনিয়ে আসা এই সঙ্কটের মূলে রয়েছে দ্বিমুখী কারণ। যথা -
১. আমেরিকা-ইরান সংঘাত: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। ইরান সীমান্তে ইতিমধ্যেই যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে আমেরিকা। যার পাল্টা চাল হিসাবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
২. অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ: ইরানে বর্তমান খামেনেই সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ রাজপথ আছড়ে পড়েছে। আন্দোলনকারীরা রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবি তুলছেন। যাকে পরোক্ষভাবে সমর্থন করছে আমেরিকা।
এই প্রেক্ষাপটে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেই বৈঠক ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। আর, সেই কারণেই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে নিজ দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপর হয়েছে নয়াদিল্লি।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন