শিলিগুড়ি: দীর্ঘ ১৪ মাস পর অবশেষে বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল শিলিগুড়ির হোটেল মালিকদের সংগঠন। ২০২৪ সালের ৯ই ডিসেম্বর থেকে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট এলাকার প্রায় ১৮০ থেকে ১৮৫টি সদস্য হোটেল এবং সংগঠনের বাইরে থাকা আরও প্রায় ৭০-৮০টি হোটেল একজোট হয়ে এই বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। মূলত ভারতের জাতীয় পতাকার অবমাননা এবং বাংলাদেশের কিছু নেতার শিলিগুড়ি করিডর ও ভারতবিরোধী উস্কানিমূলক মন্তব্যের প্রতিবাদেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এই দীর্ঘ সময় বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য দরজা বন্ধ রাখায় ব্যবসায়ীদের কয়েক কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হলেও দেশের সম্মানের স্বার্থে তাঁরা সেই ক্ষতি হাসিমুখে মেনে নিয়েছিলেন।
তবে বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতির বদল ঘটেছে। ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি সেখানে একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত হয়েছে এবং ১৭ই ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। যেখানে ভারতের লোকসভার স্পিকারও উপস্থিত ছিলেন। দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া এই ইতিবাচক পরিবেশ এবং ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ভিসা সংক্রান্ত নিয়ম কিছুটা শিথিল করার পরেই শিলিগুড়ির হোটেল অ্যাসোসিয়েশন নিষেধাজ্ঞা তোলার কথা বিবেচনা করে। সংগঠনের অভ্যন্তরে ভোটাভুটির মাধ্যমে দেখা যায় যে, ৭৫ শতাংশেরও বেশি হোটেল মালিক বর্তমানে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পক্ষে মত দিয়েছেন।
অন্যদিকে, পর্যটন মহলের জন্য আরও একটি খুশির খবর হলো, অস্থিরতার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া এনজেপি-ঢাকা ‘মিতালী এক্সপ্রেস’ আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যেই এনজেপি স্টেশন থেকে পুনরায় চলাচল শুরু করতে পারে। সব মিলিয়ে দুই দেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ এবং পর্যটকদের যাতায়াত স্বাভাবিক করতে শিলিগুড়ির হোটেল ব্যবসায়ীরা পুনরায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এর ফলে উত্তরবঙ্গের পর্যটন ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে ফের জোয়ার আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন