Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

'স্ত্রী চাকরি করেন না মানেই অলস নন', গৃহিণীর শ্রমকে বড় স্বীকৃতি দিয়ে ঐতিহাসিক রায় দিল্লি হাই কোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
'স্ত্রী চাকরি করেন না মানেই অলস নন', গৃহিণীর শ্রমকে বড় স্বীকৃতি দিয়ে ঐতিহাসিক রায় দিল্লি হাই কোর্টের
AI GENERATED PICTURE

নতুন দিল্লি: ঘর সামলানো বা সংসারের দেখভাল করা কোনো 'অলসতা' নয়, বরং এটি এক বেতনহীন কঠোর পরিশ্রম। ভরণপোষণ সংক্রান্ত একটি মামলার প্রেক্ষিতে এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানাল দিল্লি হাই কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, একজন গৃহিণীর শ্রমই তাঁর সঙ্গীকে শান্তিতে কাজ করতে সাহায্য করে, তাই বিচ্ছেদের পর তাঁর অবদানকে অস্বীকার করা আইনত ও নৈতিকভাবে অপরাধ।


২০১২ সালে বিবাহিত এক দম্পতির বিচ্ছেদ মামলা চলাকালীন নিম্ন আদালত ওই মহিলার ভরণপোষণের দাবি নাকচ করে দিয়েছিল। বিচারক মন্তব্য করেছিলেন, ওই মহিলা শিক্ষিতা এবং কর্মক্ষম, তাই ‘অলস ভাবে’ বসে না থেকে তাঁর চাকরি খোঁজা উচিত। নিম্ন আদালতের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ওই মহিলা।

মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মার এজলাস নিম্ন আদালতের পর্যবেক্ষণকে সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয়। আদালত জানায়, "উপার্জন করার ক্ষমতা থাকা আর প্রকৃত উপার্জন করা— দু’টি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। উপার্জনের ক্ষমতা আছে বলেই কাউকে ভরণপোষণ থেকে বঞ্চিত করা যায় না।" বিচারপতির মতে, একজন স্ত্রীর কর্মহীনতাকে তাঁর অলসতা বা ইচ্ছাকৃত পরনির্ভরশীলতা হিসেবে দেখা ভুল।


হাই কোর্ট তাঁর পর্যবেক্ষণে জানায়, গৃহিণীর শ্রমকে আমরা প্রায়ই মূল্যহীন মনে করি কারণ তা কোনো 'ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্টে' দেখা যায় না কিংবা সেই আয়ের ওপর কর দিতে হয় না। কিন্তু সন্তানদের যত্ন নেওয়া, সংসার সামলানো এবং স্বামীর সুবিধা-অসুবিধা দেখা— এই কাজগুলোই পারিবারিক কাঠামোকে শক্ত করে ধরে রাখে। বিচারপতি বলেন, "গৃহিণীর এই শ্রম বেতনহীন হতে পারে, কিন্তু তা কখনওই মূল্যহীন নয়।"


আদালত আরও একটি জরুরি বিষয়ের দিকে আলোকপাত করেছে। অনেক মহিলা বিয়ের পর পারিবারিক চাপে বা স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়েন। কিন্তু বছরের পর বছর বিরতির পর তিনি আগের মতো একই বেতন বা একই পদমর্যাদায় চাকরিতে ফিরতে পারবেন, এমনটা আশা করা বাস্তবসম্মত নয়। আদালত সাফ জানায়, ভারতীয় সমাজে স্বামীরা প্রায়ই বিচ্ছেদের সময় দাবি করেন যে স্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে বেকার থাকছেন। এই ধরনের মানসিকতাকে আইনের মাধ্যমে আটকানো প্রয়োজন।


সংশ্লিষ্ট মামলায় স্ত্রীর উপার্জনের কোনো রেকর্ড না থাকায় আদালত তাঁকে ভরণপোষণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই রায় আগামী দিনে গৃহিণীদের আইনি অধিকার সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

বিষয় : NEW DELHI historicjudgement maintaenancecase genderequality womenrights

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


'স্ত্রী চাকরি করেন না মানেই অলস নন', গৃহিণীর শ্রমকে বড় স্বীকৃতি দিয়ে ঐতিহাসিক রায় দিল্লি হাই কোর্টের

প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
নতুন দিল্লি: ঘর সামলানো বা সংসারের দেখভাল করা কোনো 'অলসতা' নয়, বরং এটি এক বেতনহীন কঠোর পরিশ্রম। ভরণপোষণ সংক্রান্ত একটি মামলার প্রেক্ষিতে এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানাল দিল্লি হাই কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, একজন গৃহিণীর শ্রমই তাঁর সঙ্গীকে শান্তিতে কাজ করতে সাহায্য করে, তাই বিচ্ছেদের পর তাঁর অবদানকে অস্বীকার করা আইনত ও নৈতিকভাবে অপরাধ।২০১২ সালে বিবাহিত এক দম্পতির বিচ্ছেদ মামলা চলাকালীন নিম্ন আদালত ওই মহিলার ভরণপোষণের দাবি নাকচ করে দিয়েছিল। বিচারক মন্তব্য করেছিলেন, ওই মহিলা শিক্ষিতা এবং কর্মক্ষম, তাই ‘অলস ভাবে’ বসে না থেকে তাঁর চাকরি খোঁজা উচিত। নিম্ন আদালতের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ওই মহিলা।মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মার এজলাস নিম্ন আদালতের পর্যবেক্ষণকে সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয়। আদালত জানায়, "উপার্জন করার ক্ষমতা থাকা আর প্রকৃত উপার্জন করা— দু’টি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। উপার্জনের ক্ষমতা আছে বলেই কাউকে ভরণপোষণ থেকে বঞ্চিত করা যায় না।" বিচারপতির মতে, একজন স্ত্রীর কর্মহীনতাকে তাঁর অলসতা বা ইচ্ছাকৃত পরনির্ভরশীলতা হিসেবে দেখা ভুল।হাই কোর্ট তাঁর পর্যবেক্ষণে জানায়, গৃহিণীর শ্রমকে আমরা প্রায়ই মূল্যহীন মনে করি কারণ তা কোনো 'ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্টে' দেখা যায় না কিংবা সেই আয়ের ওপর কর দিতে হয় না। কিন্তু সন্তানদের যত্ন নেওয়া, সংসার সামলানো এবং স্বামীর সুবিধা-অসুবিধা দেখা— এই কাজগুলোই পারিবারিক কাঠামোকে শক্ত করে ধরে রাখে। বিচারপতি বলেন, "গৃহিণীর এই শ্রম বেতনহীন হতে পারে, কিন্তু তা কখনওই মূল্যহীন নয়।"আদালত আরও একটি জরুরি বিষয়ের দিকে আলোকপাত করেছে। অনেক মহিলা বিয়ের পর পারিবারিক চাপে বা স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়েন। কিন্তু বছরের পর বছর বিরতির পর তিনি আগের মতো একই বেতন বা একই পদমর্যাদায় চাকরিতে ফিরতে পারবেন, এমনটা আশা করা বাস্তবসম্মত নয়। আদালত সাফ জানায়, ভারতীয় সমাজে স্বামীরা প্রায়ই বিচ্ছেদের সময় দাবি করেন যে স্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে বেকার থাকছেন। এই ধরনের মানসিকতাকে আইনের মাধ্যমে আটকানো প্রয়োজন।সংশ্লিষ্ট মামলায় স্ত্রীর উপার্জনের কোনো রেকর্ড না থাকায় আদালত তাঁকে ভরণপোষণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই রায় আগামী দিনে গৃহিণীদের আইনি অধিকার সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার