Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

খোদ বিএলওর নামই ‘অমীমাংসিত’! ভোটারতালিকা হাতে পেয়ে আতঙ্কে দেগঙ্গার ফিরোজা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
খোদ বিএলওর নামই ‘অমীমাংসিত’! ভোটারতালিকা হাতে পেয়ে আতঙ্কে দেগঙ্গার ফিরোজা

বারাসত: এ যেন প্রদীপের নীচেই অন্ধকার! সাধারণ মানুষের নাম ভোটারতালিকায় তোলার দায়িত্ব যাঁর কাঁধে, এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নামই এখন ‘অমীমাংসিত’ বা অ্যাডজুডিকেশন (Adjudication) ক্যাটেগরিতে রয়ে গিয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা বিধানসভা কেন্দ্রের ৬ নম্বর পার্টের বিএলও ফিরোজা খাতুনের এই পরিস্থিতি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলা প্রশাসনিক মহলে। নিজের এবং পরিবারের নাম তালিকায় না দেখে রীতিমতো কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।


শনিবার বারাসত-১ নম্বর বিডিও অফিসে নিজের পার্টের ভোটারতালিকা সংগ্রহ করতে এসেছিলেন ফিরোজা খাতুন। তালিকা হাতে নিয়ে দেখেন, তাঁর নিজের নাম এবং তাঁর স্বামীর নাম ‘অমীমাংসিত’ তালিকায় রাখা হয়েছে। ফিরোজা জানান, “আমি কী বলব বুঝতে পারছি না। আমার নিজের নাম, আমার স্বামীর নাম — সবই অ্যাডজুডিকেশন ক্যাটেগরিতে চলে গিয়েছে। আমার বাবা-মা, ঠাকুর্দা-ঠাকুমা সবাই এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা। ২০০২ সালের ভোটারতালিকাতেও সকলের নাম ছিল। আমরা ছয় ভাইবোন। সবাই এ দেশেরই নাগরিক। অথচ আজ এই দশা!”


ফিরোজা খাতুনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর নির্দিষ্ট পার্টে মোট ৫০০ জন ভোটার রয়েছেন। আশ্চর্যের বিষয় হল, তার মধ্যে প্রায় ২০০ জনের নামই ‘অমীমাংসিত’ তালিকায় রয়েছে। অর্থাৎ, এই বিশাল সংখ্যক মানুষের নাম শেষমেশ ভোটারতালিকায় থাকবে কিনা, তা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


এই পরিস্থিতির পর বাড়ি ফিরতেই ভয় পাচ্ছেন ফিরোজা। কয়েক দিন আগেই ভোটারতালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর উপর চড়াও হয়েছিলেন বলে অভিযোগ। ফিরোজা বলেন, “মানুষের মনে ভয় ঢুকে গিয়েছে যে তাদের নাম বাদ যাবে। সেই আক্রোশ থেকেই কয়েক দিন আগে আমার উপর হামলা হয়েছিল। আজ, আমার নিজের এবং আরও ২০০ জনের এই অস্পষ্ট তালিকা নিয়ে গ্রামে ফিরে কী বলব, তা ভেবেই বুক কাঁপছে। জানি না আদৌ ঠিকভাবে বাড়ি পৌঁছতে পারব কিনা।”


জেলা প্রশাসনের তরফে এই ‘অমীমাংসিত’ নামগুলি নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও, ফিরোজা খাতুনের মতো সরকারি কর্মীদের নিরাপত্তা এবং তাঁদের নিজেদের নাগরিকত্বের প্রমাণ নিয়ে যে সঙ্কট তৈরি হয়েছে, তা এসআইআর প্রক্রিয়ার এক জটিল চিত্র তুলে ধরল।

বিষয় : SIR SIR West Bengal

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


খোদ বিএলওর নামই ‘অমীমাংসিত’! ভোটারতালিকা হাতে পেয়ে আতঙ্কে দেগঙ্গার ফিরোজা

প্রকাশের তারিখ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image
বারাসত: এ যেন প্রদীপের নীচেই অন্ধকার! সাধারণ মানুষের নাম ভোটারতালিকায় তোলার দায়িত্ব যাঁর কাঁধে, এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নামই এখন ‘অমীমাংসিত’ বা অ্যাডজুডিকেশন (Adjudication) ক্যাটেগরিতে রয়ে গিয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা বিধানসভা কেন্দ্রের ৬ নম্বর পার্টের বিএলও ফিরোজা খাতুনের এই পরিস্থিতি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলা প্রশাসনিক মহলে। নিজের এবং পরিবারের নাম তালিকায় না দেখে রীতিমতো কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।শনিবার বারাসত-১ নম্বর বিডিও অফিসে নিজের পার্টের ভোটারতালিকা সংগ্রহ করতে এসেছিলেন ফিরোজা খাতুন। তালিকা হাতে নিয়ে দেখেন, তাঁর নিজের নাম এবং তাঁর স্বামীর নাম ‘অমীমাংসিত’ তালিকায় রাখা হয়েছে। ফিরোজা জানান, “আমি কী বলব বুঝতে পারছি না। আমার নিজের নাম, আমার স্বামীর নাম — সবই অ্যাডজুডিকেশন ক্যাটেগরিতে চলে গিয়েছে। আমার বাবা-মা, ঠাকুর্দা-ঠাকুমা সবাই এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা। ২০০২ সালের ভোটারতালিকাতেও সকলের নাম ছিল। আমরা ছয় ভাইবোন। সবাই এ দেশেরই নাগরিক। অথচ আজ এই দশা!”ফিরোজা খাতুনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর নির্দিষ্ট পার্টে মোট ৫০০ জন ভোটার রয়েছেন। আশ্চর্যের বিষয় হল, তার মধ্যে প্রায় ২০০ জনের নামই ‘অমীমাংসিত’ তালিকায় রয়েছে। অর্থাৎ, এই বিশাল সংখ্যক মানুষের নাম শেষমেশ ভোটারতালিকায় থাকবে কিনা, তা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।এই পরিস্থিতির পর বাড়ি ফিরতেই ভয় পাচ্ছেন ফিরোজা। কয়েক দিন আগেই ভোটারতালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর উপর চড়াও হয়েছিলেন বলে অভিযোগ। ফিরোজা বলেন, “মানুষের মনে ভয় ঢুকে গিয়েছে যে তাদের নাম বাদ যাবে। সেই আক্রোশ থেকেই কয়েক দিন আগে আমার উপর হামলা হয়েছিল। আজ, আমার নিজের এবং আরও ২০০ জনের এই অস্পষ্ট তালিকা নিয়ে গ্রামে ফিরে কী বলব, তা ভেবেই বুক কাঁপছে। জানি না আদৌ ঠিকভাবে বাড়ি পৌঁছতে পারব কিনা।”জেলা প্রশাসনের তরফে এই ‘অমীমাংসিত’ নামগুলি নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও, ফিরোজা খাতুনের মতো সরকারি কর্মীদের নিরাপত্তা এবং তাঁদের নিজেদের নাগরিকত্বের প্রমাণ নিয়ে যে সঙ্কট তৈরি হয়েছে, তা এসআইআর প্রক্রিয়ার এক জটিল চিত্র তুলে ধরল।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার