তেহরান/ওয়াশিংটন, ১ মার্চ ২০২৬: ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর দেশটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে জল্পনা। চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই হামলার অন্তত দু’সপ্তাহ আগেই খামেনেই-পরবর্তী ইরানের শাসনভার কে সামলাবেন, তা নিয়ে নীল নকশা তৈরি করে রেখেছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA)।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দেশের শাসনব্যবস্থায় শূন্যতা পূরণে আপাতত একটি তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। এই কাউন্সিলে রয়েছেন:
১. প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
২. ইরানের বিচারব্যবস্থার প্রধান।
৩. অভিভাবক কাউন্সিলের (Guardian Council) একজন বিশিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞ।
পরবর্তী স্থায়ী শাসক নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত এই কাউন্সিলই দেশ পরিচালনা করবে।
খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন আমেরিকায় নির্বাসিত ইরানের প্রাক্তন শাহ-পুত্র রেজা পাহলভি। একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, "প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বার্তাই ইরানের মানুষকে শক্তি দিয়েছে। এখন আমাদের পথ পরিষ্কার। আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়ন হবে।" তিনি আরও জানান, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকার গঠিত হলে বর্তমান অন্তর্বর্তী কাউন্সিল ভেঙে দেওয়া হবে।
হামলার ছক যখন তৈরি হচ্ছিল, তখনই সিআইএ ধারণা করেছিল যে খামেনেইয়ের অবর্তমানে ক্ষমতা রেভলিউশনারি গার্ডসের (IRGC) শীর্ষ নেতাদের হাতে যেতে পারে। যদিও এই বিষয়ে সরাসরি মুখ খুলতে চায়নি সিআইএ। অন্যদিকে, তেহরান নিশ্চিত করেছে যে শনিবার নিজ দপ্তরে কাজ করার সময় ইজরায়েলি ও মার্কিন ড্রোন হামলায় সপরিবারে নিহত হন খামেনেই। তাঁর কন্যা, জামাতা ও নাতনিও এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
ইরান জুড়ে বর্তমানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলছে। তবে শোকের আবহেও রেভলিউশনারি গার্ড হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ইজরায়েল ও আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর ইতিহাসের ‘সবচেয়ে তীব্র’ হামলা চালিয়ে এই হত্যার বদলা নেওয়া হবে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন