চূড়ান্ত সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাঁকদ্বীপ ব্লকের প্রতাপাদিত্য গ্রাম পঞ্চায়েতে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ৮৫ নম্বর বুথের মোট ১৩০০ ভোটারের মধ্যে এক ধাক্কায় ১৬৪ জনের নাম বাদ পড়ায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়। মৃত ব্যক্তি নয়, বরং বহু জীবিত ব্যক্তির নাম তালিকা থেকে বেমালুম গায়েব হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তালিকায় অসঙ্গতির এমন চিত্র সামনে এসেছে যে পরিবারের কর্তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এই বুথের বাসিন্দা সুমন দাসের বাবা ও মায়ের নাম তালিকায় থাকলেও রহস্যজনকভাবে সুমনের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। অন্য রাজ্যে শ্রমিকের কাজ করা সুমন দাসের প্রশ্ন, একই পরিবারে থেকেও তাঁর নাম কেন বাদ দেওয়া হলো? রাজনৈতিক নেতৃত্বও এই ঘটনা নিয়ে প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে।
সবচেয়ে বড় বিতর্ক দানা বেঁধেছে ‘আন্ডার জুডিশিয়াল’ বা তদন্তাধীন ক্যাটাগরি নিয়ে। নন্দ দুলাল প্রধানের মতো প্রবীণ বাসিন্দার কাছে ১৯৭৪ সালের জমির বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, নাম থাকলেও তাঁকে এখনও ‘তদন্তাধীন’ তালিকায় রাখা হয়েছে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও কেন এমন হয়রানি করা হচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলি।
নতুন তালিকা প্রকাশের পর দেখা যাচ্ছে, এমন অনেক ব্যক্তি যাঁরা দীর্ঘকাল ধরে এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এবং নিয়মিত ভোট দিয়ে আসছেন, তাঁদের নামও হয় বাদ গিয়েছে নয়তো ‘বিবেচনাধীন’ রাখা হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর মধ্যে নাগরিকত্ব নিয়ে অহেতুক আতঙ্ক দানা বাঁধছে। সাধারণ মানুষ এখন পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা নিয়ে অন্ধকারে। প্রশাসনিক অব্যবস্থার কারণেই এই পরিস্থিতি কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে ডোমকলের এই অঞ্চলে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন