কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের ভীমপুর পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ১৮২ নম্বর বুথের ভোটার তথা নদিয়া জেলা পরিষদের ২২ নম্বর আসনের বিজেপি সদস্যা হিরণ্ময়ী সরকারের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে উধাও! টানা দুবারের এই জনপ্রিয় জেলা পরিষদ সদস্যার নাম কেন এবং কার নির্দেশে বাদ পড়ল, তা নিয়ে উত্তাল জেলার রাজনীতি। শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে সোচ্চার হয়েছে বিজেপি।
বিজেপি নেত্রী হিরণ্ময়ী সরকারের দাবি, SIR ফর্ম জমা দেওয়ার পর তাঁর স্বামীর নামে একটি তুচ্ছ ত্রুটির অজুহাতে তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। সমস্ত বৈধ নথিপত্র এবং প্রমাণ নিয়ে তিনি সশরীরে শুনানিতে হাজির হয়েছিলেন। অথচ আশ্চর্যের বিষয়, সমস্ত তথ্য যাচাইয়ের পরেও চূড়ান্ত তালিকা থেকে তাঁর নামটি সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়েছে। একজন জনপ্রতিনিধির সাথে প্রশাসনের এই আচরণ ঘিরে প্রশ্ন উঠছে—এটি কি শুধুই ভুল নাকি পরিকল্পিত আক্রমণ?
ক্ষোভে ফেটে পড়ে হিরণ্ময়ী দেবী সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, SIR প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের একাংশ তৃণমূলের ‘এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর দাবি, "আমি দুবারের জেলা পরিষদ সদস্যা, এলাকায় বিজেপির শক্ত ভিত্তি রয়েছে। সেই রাজনৈতিক ভিত টলিয়ে দিতেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত আমার নাম তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে।" শাসকদল তৃণমূল অবশ্য দায় এড়িয়েছে, কিন্তু বিজেপির পাল্টা প্রশ্ন—একজন জনপ্রিয় বিরোধী নেত্রীকে ভোটার তালিকা থেকে সরাতে কার লাভ?
একজন নির্বাচিত জেলা পরিষদ সদস্যার নাম যদি ষড়যন্ত্র করে বাদ দেওয়া যায়, তবে সাধারণ ভোটারের অধিকার কতটা সুরক্ষিত? প্রশাসনের এই তৃণমূল-ঘেঁষা আচরণের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের সাফ কথা, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলা বন্ধ না হলে রাজপথ কাঁপানো আন্দোলন হবে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন