Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ইডেন সঞ্জুর! ৯৭ রানের মহাকাব্যে সেমিফাইনালে ভারত, সামনে ইংল্যান্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬
ইডেন সঞ্জুর! ৯৭ রানের মহাকাব্যে সেমিফাইনালে ভারত, সামনে ইংল্যান্ড

কলকাতা: ইডেন গার্ডেন্সে জন্ম নিল নতুন এক নায়ক। যে ব্যাটার কয়েকদিন আগেও ছিলেন বেঞ্চে বসে বিশ্বকাপ শেষ করার আশঙ্কায়, সেই সঞ্জু স্যামসনই বড় ম্যাচে বড় ইনিংস খেলে ভারতকে তুলে দিলেন টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়ে শেষ চারে সূর্যকুমার যাদবের দল। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ভারতের সামনে ইংল্যান্ড।


১৯৬ রানের লক্ষ্য। চাপের ম্যাচ। কিন্তু সঞ্জু খেললেন ক্লিনিক্যাল, পরিপক্ব, হিসেবি এক ইনিংস। ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭—১২টি চার ও ৪টি ছক্কা। মাত্র ৩ রানের জন্য শতরান হাতছাড়া হলেও, ইনিংসটি শতরানের সমান মূল্যবান।


টি-২০ বিশ্বকাপে রান তাড়া করতে নেমে এতদিন ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ৮২ রান ছিল বিরাট কোহলির। সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন সঞ্জু।


এটাই ভারতের টি-২০ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১৭৩ রান তাড়া করে জিতেছিল ভারত। ১২ বছর পর সেই নজির ভাঙল। আর ২০১৬-র ওয়াংখেড়ে সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হার—তার বদলাও নেওয়া হল ইডেনে।


টস জিতে প্রথমে বল করেন সূর্য। ওপেনিং জুটিতে ৬৮ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রস্টন চেজ ও শাই হোপ সাবধানী শুরু করলেও পরে গতি বাড়ে।


বুমরাহ আঘাত করেন মাঝখানে। হেটমায়ারকে ফেরান ১২ বলে ২৭-এ। চেজ করেন ৪০।

শেষের দিকে রভম্যান পাওয়েল (১৯ বলে ৩৪*) ও জেসন হোল্ডার (২২ বলে ৩৭*) ঝড় তোলেন। অর্শদীপের এক ওভারে ২৪ রান—সেখানেই ম্যাচ ঘুরে যায়। শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটে ১৯৫।


ভারতের ফিল্ডিংও চিন্তার কারণ—অভিষেক শর্মার দুটি সহজ ক্যাচ মিস।


রান তাড়ায় সঞ্জুর একার লড়াই


ভারতের শুরুটা ভালো হয়নি। অভিষেক ১১ বলে ১০। ঈশান ৬ বলে ১০।


পাওয়ার প্লে শেষে ২ উইকেটে ৫৩। সূর্যও বড় রান করতে পারলেন না (১৮)। চাপ বাড়ছিল।


কিন্তু অন্য প্রান্তে সঞ্জু ছিলেন অন্য ছন্দে।

২৬ বলে অর্ধশতরান। কোনও বাড়তি উল্লাস নয়—শুধু মনোযোগ।


তিলক বর্মা ১৫ বলে ২৭ করে সঙ্গ দেন। শেষ ৬ ওভারে দরকার ছিল ৬০ রান। টি-২০তে সম্ভব, কিন্তু বিশ্বকাপের নকআউট চাপ আলাদা।


সঞ্জু তবু শান্ত। ঝুঁকিহীন বড় শট, গ্যাপে রান, হিসেবি ক্রিকেট।


শেষ ওভারের প্রথম দুই বল—ছক্কা, চার। ম্যাচ শেষ।


মানসিক জবাব


কয়েকদিন আগেই প্রশ্ন উঠেছিল, সঞ্জুকে খেলানো হবে কি না। সূর্য বলেছিলেন, “আপনি চাইছেন আমি অভিষেককে বসিয়ে সঞ্জুকে খেলাই?”


সেই কথার জবাব ব্যাটে দিলেন সঞ্জু।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে বানালেন নিজের মঞ্চ।


জয়ের পর বাড়তি উচ্ছ্বাস নেই। পিচে হাঁটু গেড়ে বসে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। হাতজোড় করে প্রণাম। তারপর শান্ত ভাবে ড্রেসিংরুমের দিকে হাঁটা।


এটা শুধু একটি জয় নয়। এটা প্রত্যাবর্তনের গল্প। এটা সুযোগকে আঁকড়ে ধরার গল্প।


ইডেন আজ সঞ্জুর। আর ভারত—আরও এক ধাপ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে।

বিষয় : ICCT20

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


ইডেন সঞ্জুর! ৯৭ রানের মহাকাব্যে সেমিফাইনালে ভারত, সামনে ইংল্যান্ড

প্রকাশের তারিখ : ০২ মার্চ ২০২৬

featured Image
কলকাতা: ইডেন গার্ডেন্সে জন্ম নিল নতুন এক নায়ক। যে ব্যাটার কয়েকদিন আগেও ছিলেন বেঞ্চে বসে বিশ্বকাপ শেষ করার আশঙ্কায়, সেই সঞ্জু স্যামসনই বড় ম্যাচে বড় ইনিংস খেলে ভারতকে তুলে দিলেন টি-২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়ে শেষ চারে সূর্যকুমার যাদবের দল। বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ভারতের সামনে ইংল্যান্ড।১৯৬ রানের লক্ষ্য। চাপের ম্যাচ। কিন্তু সঞ্জু খেললেন ক্লিনিক্যাল, পরিপক্ব, হিসেবি এক ইনিংস। ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭—১২টি চার ও ৪টি ছক্কা। মাত্র ৩ রানের জন্য শতরান হাতছাড়া হলেও, ইনিংসটি শতরানের সমান মূল্যবান।টি-২০ বিশ্বকাপে রান তাড়া করতে নেমে এতদিন ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ৮২ রান ছিল বিরাট কোহলির। সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন সঞ্জু।এটাই ভারতের টি-২০ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১৭৩ রান তাড়া করে জিতেছিল ভারত। ১২ বছর পর সেই নজির ভাঙল। আর ২০১৬-র ওয়াংখেড়ে সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হার—তার বদলাও নেওয়া হল ইডেনে।টস জিতে প্রথমে বল করেন সূর্য। ওপেনিং জুটিতে ৬৮ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রস্টন চেজ ও শাই হোপ সাবধানী শুরু করলেও পরে গতি বাড়ে।বুমরাহ আঘাত করেন মাঝখানে। হেটমায়ারকে ফেরান ১২ বলে ২৭-এ। চেজ করেন ৪০।শেষের দিকে রভম্যান পাওয়েল (১৯ বলে ৩৪*) ও জেসন হোল্ডার (২২ বলে ৩৭*) ঝড় তোলেন। অর্শদীপের এক ওভারে ২৪ রান—সেখানেই ম্যাচ ঘুরে যায়। শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটে ১৯৫।ভারতের ফিল্ডিংও চিন্তার কারণ—অভিষেক শর্মার দুটি সহজ ক্যাচ মিস।রান তাড়ায় সঞ্জুর একার লড়াইভারতের শুরুটা ভালো হয়নি। অভিষেক ১১ বলে ১০। ঈশান ৬ বলে ১০।পাওয়ার প্লে শেষে ২ উইকেটে ৫৩। সূর্যও বড় রান করতে পারলেন না (১৮)। চাপ বাড়ছিল।কিন্তু অন্য প্রান্তে সঞ্জু ছিলেন অন্য ছন্দে।২৬ বলে অর্ধশতরান। কোনও বাড়তি উল্লাস নয়—শুধু মনোযোগ।তিলক বর্মা ১৫ বলে ২৭ করে সঙ্গ দেন। শেষ ৬ ওভারে দরকার ছিল ৬০ রান। টি-২০তে সম্ভব, কিন্তু বিশ্বকাপের নকআউট চাপ আলাদা।সঞ্জু তবু শান্ত। ঝুঁকিহীন বড় শট, গ্যাপে রান, হিসেবি ক্রিকেট।শেষ ওভারের প্রথম দুই বল—ছক্কা, চার। ম্যাচ শেষ।মানসিক জবাবকয়েকদিন আগেই প্রশ্ন উঠেছিল, সঞ্জুকে খেলানো হবে কি না। সূর্য বলেছিলেন, “আপনি চাইছেন আমি অভিষেককে বসিয়ে সঞ্জুকে খেলাই?”সেই কথার জবাব ব্যাটে দিলেন সঞ্জু।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে বানালেন নিজের মঞ্চ।জয়ের পর বাড়তি উচ্ছ্বাস নেই। পিচে হাঁটু গেড়ে বসে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। হাতজোড় করে প্রণাম। তারপর শান্ত ভাবে ড্রেসিংরুমের দিকে হাঁটা।এটা শুধু একটি জয় নয়। এটা প্রত্যাবর্তনের গল্প। এটা সুযোগকে আঁকড়ে ধরার গল্প।ইডেন আজ সঞ্জুর। আর ভারত—আরও এক ধাপ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার