দোলের সকালে রাজনীতির রঙে রঙিন হয়ে উঠল দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাস তালুকে দাঁড়িয়ে মঙ্গলবার গেরুয়া আবিরে মাতলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পাশে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের বিশাল জমায়েত নিয়ে গাইলেন গান, দিলেন শুভেচ্ছা। তবে এই সৌজন্যের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক গভীর রাজনৈতিক ইঙ্গিত, যা ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পারদ এখনই চড়িয়ে দিচ্ছে।
গত কয়েক মাস ধরে ভবানীপুর কেন্দ্রে শুভেন্দু অধিকারীর যাতায়াত চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। সম্প্রতি এই কেন্দ্রে একটি ‘ওয়ার রুম’ও তৈরি করেছেন তিনি। মঙ্গলবারের দোল উৎসবে তাঁর উপস্থিতি সেই জল্পনাকেই আরও উসকে দিল— তবে কি এবার নন্দীগ্রামের পর ভবানীপুরেও মমতার মুখোমুখি হতে চলেছেন শুভেন্দু? জনসভা থেকে তাঁর হুঙ্কার, “হিন্দুরা যাতে পশ্চিমবঙ্গে সুরক্ষিত থাকে, সেই প্রার্থনাই করব।” সেই সঙ্গে ‘হিন্দু-হিন্দু ভাই-ভাই’ স্লোগান তুলে মেরুকরণের বার্তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
বিজেপি নেতৃত্বের ধারণা, আগামী নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী নিজের পুরনো কেন্দ্র ভবানীপুর থেকেই লড়বেন। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতাকে হারানোর পর শুভেন্দুর আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। তাই এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রীর গড়ে তাঁকে কড়া টক্কর দিতে শুভেন্দুকেই তুরুপের তাস করতে চাইছে পদ্ম শিবির। প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার এই কেন্দ্রে সাংগঠনিক কর্মসূচি সারছেন বিরোধী দলনেতা, যা আদতে প্রার্থী হওয়ার জমি তৈরিরই নামান্তর বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
২০২১-এ নন্দীগ্রামে হেরে উপনির্বাচনের মাধ্যমে ভবানীপুর থেকে জিতে মুখ্যমন্ত্রী পদ রক্ষা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার কি সেই ভবানীপুরেই ঘটবে কোনও বড় ওলটপালট? শুভেন্দুর সক্রিয়তা বলছে, ২০২৬-এর মহাযুদ্ধের প্রস্তুতি তিনি এখন থেকেই শুরু করে দিয়েছেন। দোল উৎসবের এই জমায়েত কি তবে কেবলই রঙের উৎসব, নাকি আগামী বিধানসভা যুদ্ধের মহড়া? উত্তর দেবে সময়।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন