মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে এখন কেবলই বারুদের গন্ধ আর সাইরেনের শব্দ। গত শনিবার ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাত চরম সীমায় পৌঁছানোর পর থেকেই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর পর তেহরানের ‘অল আউট’ আক্রমণে এখন কাঁপছে দুবাই, আবুধাবি, কুয়েত ও বাহারিনের মতো শহরগুলো। এই মৃত্যুপুরী থেকে বাঁচতে এবার মরিয়া হয়ে দেশ ছাড়ছেন উচ্চবিত্ত বিদেশি ও ব্যবসায়ীরা।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্ট’-এর দাবি অনুযায়ী, দুবাই বা আবুধাবির মতো নিরাপদ মনে করা শহরগুলো থেকেও এখন দলে দলে মানুষ পালাচ্ছেন। সাধারণ বিমান পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ায় ধনকুবেররা বেছে নিচ্ছেন প্রাইভেট জেট বা চার্টার্ড বিমান। আর এই সুযোগে আকাশছোঁয়া হয়েছে ভাড়া। সৌদি আরব হয়ে ইউরোপে পৌঁছাতে একটি চার্টার্ড বিমানের ভাড়া গিয়ে ঠেকেছে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার ডলারে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩.২ কোটি টাকা!
নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দাবি, চাহিদাও তুঙ্গে থাকায় প্রাইভেট জেট কোম্পানিগুলো হিমশিম খাচ্ছে। অনেকে আবার প্রাণ বাঁচাতে হাজার হাজার ডলার খরচ করে সড়কপথে সৌদি আরব পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন, যাতে সেখান থেকে কোনোভাবে ইউরোপ বা আমেরিকায় পাড়ি দেওয়া যায়। ব্রিটেনের নিরাপত্তা সংস্থা ‘আলমা রিস্ক’-এর মতে, বহু বিদেশি সংস্থা তাদের কর্মীদের সপরিবারে সরিয়ে নেওয়ার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।
এককালে পর্যটন ও ব্যবসার স্বর্গরাজ্য দুবাই আজ রণক্ষেত্র। ঘনঘন আছড়ে পড়ছে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, মোটা টাকা খরচ করতেও দ্বিতীয়বার ভাবছেন না কেউ। উদ্দেশ্য একটাই— যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চল থেকে দ্রুত নিষ্ক্রমণ।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন