রঙের উৎসবে এবারও বিষণ্ণতার ছোঁয়া শান্তিনিকেতনে। দোলের দিন বিশ্বভারতী প্রাঙ্গণে সেই চেনা উন্মাদনা নেই। কবির সাধের শান্তিনিকেতন এবার ইউনেস্কোর ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’। আর সেই ঐতিহ্যের সম্মান রক্ষা করতেই দোলের দিন বসন্ত উৎসব থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পর্যটকদের ভিড়ে যাতে হেরিটেজ ভবন বা ভাস্কর্য ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই শঙ্কায় আগামী ৬ই মার্চ অভ্যন্তরীণভাবে পালিত হবে বসন্ত উৎসব।
২০১৯ সালের সেই ভয়াবহ স্মৃতি আজও শান্তিনিকেতনবাসীর মনে টাটকা। উৎসবের নামে যা ঘটেছিল, তাকে অনেকে ‘বসন্ত তাণ্ডব’ বলে অভিহিত করেন। এরপর থেকেই দোলের দিন সর্বজনীন উৎসব বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এবারও সেই কড়াকড়ি বহাল। হেরিটেজ তকমা পাওয়ার পর সতর্কতা বেড়েছে আরও কয়েক গুণ। বহিরাগতদের প্রবেশ রুখতে এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্যগুলি সুরক্ষিত রাখতে কার্যত দুর্গের চেহারা নিয়েছে বিশ্বভারতী চত্বর।
খোয়াই বা সোনাঝুরির জঙ্গলে যাতে উৎসবের নামে পরিবেশ নষ্ট না হয়, তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালে সোনাঝুরি হাট নিয়ে মামলা চলাকালীন প্রশাসন কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না। গাছপালা বাঁচানো এবং পরিবেশ রক্ষায় এদিন বন্ধ রাখা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ‘খোয়াই হাট’ও। পর্যটকদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কড়া নজরদারি লক্ষ্য করা গেছে সকাল থেকেই।
বিশ্বভারতী উৎসব না করলেও শান্তিনিকেতনের আনাচে-কানাচে পালিত হচ্ছে রঙের উৎসব। বোলপুর পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পাড়ায় পাড়ায় রবীন্দ্রসঙ্গীতের মূর্ছনায় মেতেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে সামগ্রিকভাবে শান্তিনিকেতনের সেই বাঁধভাঙা ভিড় বা কোলাহল এবার অনেকটাই স্তিমিত।
শান্তিনিকেতন আজ এক অদ্ভুত দোলাচলে— একদিকে ঐতিহ্যের অহংকার ও তা রক্ষার তাগিদ, অন্যদিকে প্রাণের উৎসবের হারিয়ে যাওয়া উন্মাদনা। এই দুইয়ের মাঝেই আবিরের রাঙা রঙে আলতো করে ছোঁয়া দিয়ে যাচ্ছে বসন্ত।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন