ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর দীর্ঘ ৬০ বছরের ছায়াসঙ্গিনী মনসুরে খোজাস্তেহ বাঘেরজাদেহ আর নেই। শনিবার ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর দুই দিন জীবনযুদ্ধ চালিয়ে সোমবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ৭৯ বছর বয়সি মনসুরের প্রয়াণের সঙ্গেই যেন খামেনেই পরিবারের একটি যুগের অবসান ঘটল।
ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকেও কেন ‘অদৃশ্য’?
চার দশক ধরে খামেনেই যখন পশ্চিম এশিয়ার রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেছেন, মনসুরে তখন নিজেকে ব্যস্ত রেখেছিলেন কেবল অন্দরমহলে। ইরানের কট্টর ধর্মীয় নীতি মেনে তিনি কখনও ক্ষমতার ভাগ চাননি। জনসমক্ষে তাঁর উপস্থিতি ছিল হাতেগোনা। স্বামী, ছয় সন্তান আর নাতি-নাতনিদের নিয়ে ভরা সংসার সামলানোই ছিল তাঁর ধ্যানজ্ঞান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম তাই তাঁকে ‘ইরানের সবচেয়ে অদৃশ্য মহিলা’ (The Invisible Woman of Iran) বলে অভিহিত করত।
পরিচয় থেকে পরিণয়:
১৯৪৭ সালে মাশহাদ শহরের এক সম্ভ্রান্ত ও বিত্তবান পরিবারে জন্ম মনসুরের। ১৯৬৪ সালে এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে আলি খামেনেইর সঙ্গে তাঁর পরিচয়। তখন ইরানে শাহ বংশের শাসন। খামেনেই তখন আয়াতোল্লা খোমেইনির ঘনিষ্ঠ শিষ্য হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছেন। মনসুরের বাবা মহম্মদ ইসমাইল ছিলেন একজন দূরদর্শী ব্যবসায়ী। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন খামেনেইর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা। পরিবারের উদ্যোগেই শুরু হয় তাঁদের দীর্ঘ ছয় দশকের দাম্পত্য।
তছনছ হওয়া এক সংসার:
শনিবারের সেই বিধ্বংসী হামলায় কেবল মনসুরে নন, মৃত্যু হয়েছে খোদ আয়াতোল্লা আলি খামেনেইরও। একইসঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন তাঁদের এক মেয়ে, জামাই এবং নাতনি। যে পরিবারের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল গোটা ইরানে, সেই পরিবারেরই করুণ পরিণতি দেখল বিশ্ব।
ইরানের রাজতন্ত্রের পতন থেকে মোল্লাতন্ত্রের উত্থান— সবকিছুর নীরব সাক্ষী ছিলেন মনসুরে। স্বামী হারিয়ে যাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর চিরপ্রস্থান যেন এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের যবনিকা টানল। খামেনেই পরবর্তী ইরানের ভবিষ্যৎ যখন ঘোর অনিশ্চয়তায় ঢাকা, ঠিক তখনই চিরঘুমের দেশে পাড়ি দিলেন তাঁর ঘর আগলে রাখা ‘অদৃশ্য’ সঙ্গিনী।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন