Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ডলার হটিয়ে ইউয়ানে লেনদেন! চিনে ইরানি তেল পাচারের নেপথ্যে এক ‘রহস্যময়’ ব্যাঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৬
ডলার হটিয়ে ইউয়ানে লেনদেন! চিনে ইরানি তেল পাচারের নেপথ্যে এক ‘রহস্যময়’ ব্যাঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদন: আমেরিকার কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গত কয়েক বছর ধরে ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ খনিজ তেল আমদানি করেছে চিন। আর, এই বিশাল কারবারের নেপথ্যে রয়েছে একটি স্বল্প পরিচিত চিনা ব্যাঙ্ক — ‘ব্যাঙ্ক অফ কুনলুন’ (Bank of Kunlun)। ডলারের বদলে চিনা মুদ্রা ইউয়ানে লেনদেন করে এবং তেলের উৎস গোপন রেখে এই ব্যবসা চালিয়েছে শি জিনপিংয়ের দেশ!


সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারিভাবে ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ রাখলেও চিন ঘুরপথে এই আমদানি জারি রেখেছিল। ইরানের তেলকে মালয়েশিয়ার তেল হিসাবে পরিচয় দিয়ে জাহাজে করে চিনে আনা হত। ডলারের উপর আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ থাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেনে নজরদারি এড়াতে তেলের দাম মেটানো হত চিনা মুদ্রা ইউয়ানে। চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার অধীনে থাকা ‘ব্যাঙ্ক অফ কুনলুন’ এই লেনদেনের মূল কান্ডারী। ২০১২ সালেই আমেরিকার ট্রেজারি এই ব্যাঙ্কের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও, একেই ‘হাই-রিস্ক’ বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বাণিজ্যের নিরাপদ মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করেছে চিন।


ইরানের মোট তেল রফতানির ৮০ শতাংশই বর্তমানে কেনে চিন। কিন্তু বর্তমানে ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আবহে চিনকে প্রকাশ্যে ইরানের পাশে দাঁড়াতে দেখা যাচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, ১. তেলের দাম ইউয়ানে মেটানোর ফলে ইরান সেই টাকা কেবল চিনা পণ্য (যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম) কিনতেই খরচ করতে বাধ্য থাকত। ফলে চিনের টাকা ঘুরে ফিরে চিনা অর্থনীতিতেই ঢুকত। ২. হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় এবং আমেরিকার সাথে সরাসরি সংঘাত এড়াতে চিন সম্প্রতি ইরান থেকে তেল আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমিয়েছে। ৩. চিনের কাছে রাশিয়া এবং সৌদি আরবের মতো তেলের বিকল্প উৎস থাকায় তারা ইরানের জন্য নিজেদের অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে ফেলতে চাইছে না।


বিশ্লেষকদের মতে, চিনের এই ‘তৈলাক্ত’ সম্পর্ক কেবলই বাণিজ্যিক লাভের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তাই, যুদ্ধের দুর্দিনে বন্ধু ইরানকে তেল বিক্রির অর্থ দিলেও, সামরিক বা কূটনৈতিকভাবে সরাসরি সাহায্য করতে তারা নারাজ।

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


ডলার হটিয়ে ইউয়ানে লেনদেন! চিনে ইরানি তেল পাচারের নেপথ্যে এক ‘রহস্যময়’ ব্যাঙ্ক

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৬

featured Image
নিজস্ব প্রতিবেদন: আমেরিকার কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গত কয়েক বছর ধরে ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ খনিজ তেল আমদানি করেছে চিন। আর, এই বিশাল কারবারের নেপথ্যে রয়েছে একটি স্বল্প পরিচিত চিনা ব্যাঙ্ক — ‘ব্যাঙ্ক অফ কুনলুন’ (Bank of Kunlun)। ডলারের বদলে চিনা মুদ্রা ইউয়ানে লেনদেন করে এবং তেলের উৎস গোপন রেখে এই ব্যবসা চালিয়েছে শি জিনপিংয়ের দেশ!সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারিভাবে ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ রাখলেও চিন ঘুরপথে এই আমদানি জারি রেখেছিল। ইরানের তেলকে মালয়েশিয়ার তেল হিসাবে পরিচয় দিয়ে জাহাজে করে চিনে আনা হত। ডলারের উপর আমেরিকার নিয়ন্ত্রণ থাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেনে নজরদারি এড়াতে তেলের দাম মেটানো হত চিনা মুদ্রা ইউয়ানে। চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার অধীনে থাকা ‘ব্যাঙ্ক অফ কুনলুন’ এই লেনদেনের মূল কান্ডারী। ২০১২ সালেই আমেরিকার ট্রেজারি এই ব্যাঙ্কের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও, একেই ‘হাই-রিস্ক’ বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বাণিজ্যের নিরাপদ মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করেছে চিন।ইরানের মোট তেল রফতানির ৮০ শতাংশই বর্তমানে কেনে চিন। কিন্তু বর্তমানে ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আবহে চিনকে প্রকাশ্যে ইরানের পাশে দাঁড়াতে দেখা যাচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, ১. তেলের দাম ইউয়ানে মেটানোর ফলে ইরান সেই টাকা কেবল চিনা পণ্য (যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম) কিনতেই খরচ করতে বাধ্য থাকত। ফলে চিনের টাকা ঘুরে ফিরে চিনা অর্থনীতিতেই ঢুকত। ২. হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় এবং আমেরিকার সাথে সরাসরি সংঘাত এড়াতে চিন সম্প্রতি ইরান থেকে তেল আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমিয়েছে। ৩. চিনের কাছে রাশিয়া এবং সৌদি আরবের মতো তেলের বিকল্প উৎস থাকায় তারা ইরানের জন্য নিজেদের অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে ফেলতে চাইছে না।বিশ্লেষকদের মতে, চিনের এই ‘তৈলাক্ত’ সম্পর্ক কেবলই বাণিজ্যিক লাভের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তাই, যুদ্ধের দুর্দিনে বন্ধু ইরানকে তেল বিক্রির অর্থ দিলেও, সামরিক বা কূটনৈতিকভাবে সরাসরি সাহায্য করতে তারা নারাজ।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার