নিজস্ব প্রতিবেদন: ২০২৫ সালের এপ্রিলে জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় হওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলার তদন্তে এক চাঞ্চল্যকর মোড়। জঙ্গিদের ফেলে যাওয়া একটি অত্যাধুনিক ‘গো-প্রো’ (GoPro) ক্যামেরার উৎস এবং মালিকানা সংক্রান্ত তথ্য জানতে এবার চিনের সাহায্য নিতে চলেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। সোমবার জম্মু আদালত এনআইএ-কে এই বিষয়ে চিনা কর্তৃপক্ষের কাছে আইনি অনুরোধ বা ‘লেটার রোগাটরি’ পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে।
তদন্ত চলাকালীন এনআইএ গোয়েন্দারা জঙ্গিদের ডেরা থেকে একটি ক্যামেরা উদ্ধার করেন (যার সিরিয়াল নম্বর: সি৩৫০১৩২৫৪৭১৭০৬)। ডিভাইসের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, নেদারল্যান্ডসের গো-প্রো মূল কার্যালয়ের তথ্য অনুসারে, এই ক্যামেরাটি চিনের ‘AE গ্রুপ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামক এক ডিস্ট্রিবিউটরকে সরবরাহ করা হয়েছিল।
সবথেকে রহস্যময় বিষয় হল, এই ক্যামেরাটি ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি চিনের দংগুয়ান (Dongguan) এলাকা থেকে প্রথমবার সক্রিয় বা অ্যাক্টিভেট করা হয়েছিল। চিনে অ্যাক্টিভেটেড হওয়া একটি ক্যামেরা কীভাবে সীমান্ত পেরিয়ে লস্কর বা জইশ জঙ্গিদের হাতে পৌঁছল, তা জানতেই এখন চিনা কর্তৃপক্ষের সাহায্য অপরিহার্য বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের হামলায় ২৫ জন পর্যটক এবং একজন স্থানীয় ঘোড়সওয়ার প্রাণ হারিয়েছিলেন। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের জেরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, যা পরে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংসের পথে এগোয়। এনআইএ-র দাবি, হামলার আগে জঙ্গিরা এই ক্যামেরা ব্যবহার করে এলাকা রেইকি করেছিল এবং গোটা হত্যালীলা রেকর্ড করার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
যদিও এই হামলার সঙ্গে যুক্ত তিন জঙ্গিকে গত বছরের জুলাই মাসে এনকাউন্টারে খতম করেছে ভারতীয় সেনা। তবে, এই আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এবং এর নেপথ্যে থাকা বড় ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস করতেই এখন চিনা ভূখণ্ডের তথ্যপ্রমাণের উপর জোর দিচ্ছে এনআইএ। আদালত অনুমতি দেওয়ায় এখন দেখার, চিন এই তদন্তে ভারতকে কতটা সহযোগিতা করে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন