ওয়াশিংটন: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের রণাঙ্গন ছাপিয়ে এবার বিতর্কের আঁচ আছড়ে পড়ল মার্কিন রাজনীতির অলিন্দে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমেরিকার প্রতিদিনের কয়েক হাজার কোটি টাকার খরচ এবং যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং প্রেসিডেন্টের একক সিদ্ধান্তে যুদ্ধে জড়ানো নিয়ে বুধবার মার্কিন সেনেটে গুরুত্বপূর্ণ ভোটাভুটি হওয়ার কথা।
মার্কিন রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানে হামলার প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই আমেরিকার খরচ হয়েছে প্রায় ৭৭ কোটি ৯০ লক্ষ মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬,৯০০ কোটি টাকা! প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আভাস দিয়েছেন, এই যুদ্ধ আরও এক মাস চলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে মার্কিন রাজকোষ থেকে অন্তত ২১ হাজার কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৮.৮৭ লক্ষ কোটি টাকা) বেরিয়ে যাবে। সেন্টার ফর নিউ আমেরিকান সিকিউরিটি-র তথ্য বলছে, একটি রণতরী পরিচালনা করতেই প্রতিদিন খরচ হচ্ছে প্রায় ৫৮ কোটি টাকা। এই বিপুল ব্যয় ট্রাম্পের ঘোষিত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির পরিপন্থী কি না, তা নিয়ে সরব হয়েছেন আইনপ্রণেতারা।
মঙ্গলবার মার্কিন ক্যাপিটলে ইরান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা চলাকালীন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ট্রাম্প এই যুদ্ধে জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীরা। সেনেট সদস্য অ্যাঙ্গাস কিং সরাসরি দাবি করেছেন, ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর পরিকল্পনাকে সফল করতেই ট্রাম্প আমেরিকাকে এই যুদ্ধে টেনে এনেছেন, যা অত্যন্ত ‘বিরক্তিকর’। যদিও প্রতিরক্ষা কর্তা এলব্রিজ কলবির পাল্টা যুক্তি, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি রুখতেই এই আগাম হামলা বা ‘প্রি-এমপ্টিভ স্ট্রাইক’ জরুরি ছিল।
মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, আমেরিকা নিজে থেকে আগে আঘাত হানেনি। কিন্তু প্রশাসনের একাংশের আশঙ্কা, ইজরায়েল হামলা চালালে পশ্চিম এশিয়ায় থাকা মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলি ইরানের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এই অনিশ্চয়তা এবং যুদ্ধের বিপুল আর্থিক বোঝা নিয়েই আজ হাউস ও সেনেটে ভোটাভুটি হবে। এই ভোটাভুটির মাধ্যমেই স্থির হতে পারে আমেরিকা এই যুদ্ধ থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসার রাস্তা খুঁজবে, নাকি আরও গভীরে জড়িয়ে পড়বে।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন