কাঠমান্ডু: উত্তাল জনরোষ, সরকারের পতন এবং 'জেন-জি' (Gen-Z) প্রজন্মের তীব্র আন্দোলনের পর আজ ফের ব্যালট বক্সে নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণ করছে নেপাল। বৃহস্পতিবার ৫ মার্চ, সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে এই ভোটদান। নেপালের রাজনীতির ইতিহাসে এবারের নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নেপালের নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ১ কোটি ৯০ লক্ষেরও বেশি। দেশের মোট ২৩ হাজার বুথে ভোটগ্রহণ চলছে। সংসদের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস’-এর মোট ২৭৫টি আসনের জন্য এই লড়াই।
এর মধ্যে ১৬৫টি আসনে ভোট হচ্ছে প্রত্যক্ষ পদ্ধতিতে।
বাকি ১১০টি আসনে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করা হবে পরোক্ষ বা আনুপাতিক হারে।
এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ। মোট প্রার্থীর সংখ্যা ৬৫৪১ জন। চমকপ্রদ তথ্য হলো, প্রার্থীদের মধ্যে ৪০ বছরের কমবয়সী প্রার্থীর সংখ্যা ১০০০-এরও বেশি! মূলত গত বছরের সেপ্টেম্বরে হওয়া ছাত্র ও যুব আন্দোলনের প্রভাবই ফুটে উঠেছে এই প্রার্থী তালিকায়।
নেপালের মসনদে কে বসবেন, তা নিয়ে লড়াই এখন তুঙ্গে। এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দেশের ৬ জন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। একদিকে যেমন অভিজ্ঞতার লড়াই, অন্যদিকে তেমনই জেন-জি প্রজন্মের পরিবর্তনের ডাক—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল।
স্মরণ করা যেতে পারে, গত ৯ সেপ্টেম্বর নেপালে বড়সড় রাজনৈতিক রদবদল ঘটে। জেন-জি প্রজন্মের ব্যাপক গণবিক্ষোভের জেরে পতন হয় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি-র নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টির সরকারের। সেই আন্দোলনের পর এটিই প্রথম সাধারণ নির্বাচন, তাই নেপালের সাধারণ মানুষ কোন দিকে রায় দেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক মহল।
জোড়া ব্যালটের এই নির্বাচনে একদিকে যেমন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার খোঁজ করছে নেপাল, অন্যদিকে তেমনই নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণের চ্যালেঞ্জও রয়েছে আগামী সরকারের সামনে।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন