দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম! মাঝ সমুদ্রে টর্পেডো ছুড়ে শত্রুদেশের রণতরী ধ্বংস করল আমেরিকা। বুধবার ভোরে শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছে ভারত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানি যুদ্ধজাহাজ ‘ডেনা’-র ওপর হামলা চালায় মার্কিন ডুবোজাহাজ। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৮৭ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৬০ জন। এই নজিরবিহীন হামলার পর ইরান সরাসরি আমেরিকাকে চরম পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই হামলার তীব্র নিন্দা করে দাবি করেছেন, ‘ডেনা’ ছিল ভারতীয় নৌসেনার ‘অতিথি’। সম্প্রতি বিশাখাপত্তনমে আয়োজিত আন্তর্জাতিক নৌমহড়ায় অংশ নিয়েছিল এই ইরানি ফ্রিগেটটি। তেহরানের অভিযোগ, কোনো সতর্কবার্তা ছাড়াই আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই নির্মম হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে কোনো বিবৃতি না দিলেও সূত্রের খবর, মহড়া শেষে ভারতের জলসীমা ছাড়ার পর সেটিকে আর ‘অতিথি’ বলা চলে না।
হামলার সময় জাহাজটিতে প্রায় ১৩০ জন ছিলেন। উদ্ধারকাজে নেমেছে শ্রীলঙ্কার নৌসেনা। নিহত ৮৭ জন। জীবিত উদ্ধার ৩২ জন (শ্রীলঙ্কার গলে চিকিৎসাধীন)নিখোঁজ এখনও ৬০ জন। সময় গড়ানোর সাথে সাথে নিখোঁজদের জীবিত পাওয়ার আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ এই হামলার কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, এটি একটি ঐতিহাসিক অপারেশন। তাঁর কথায়, “ইরানি যুদ্ধজাহাজ ভেবেছিল আন্তর্জাতিক জলসীমায় তারা নিরাপদ, কিন্তু আমাদের ডুবোজাহাজ টর্পেডো দিয়ে সেটি ধ্বংস করে দিয়েছে।” বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার মাধ্যমে পেন্টাগন স্পষ্ট বার্তা দিল যে, পৃথিবীর কোনো জলসীমাই এখন ইরানের জন্য নিরাপদ নয়।
এদিকে শ্রীলঙ্কা উপকূলে আরও একটি ইরানি জাহাজ থাকায় সেটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন কলম্বো। শ্রীলঙ্কা সরকার জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনে জাহাজটিকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে এবং উদ্ধারকাজ অব্যাহত রেখেছে।
বিষয় : US Iran war

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন