হাওড়া: পিলখানায় প্রোমোটার খুনের ঘটনায় মূল দুই অভিযুক্তকে আদালতে পেশ করা নিয়ে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল হাওড়া আদালত চত্বর। শুক্রবার রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (CID) ধৃত হারুন খান এবং রাফাকাত হোসেনকে আদালতে হাজির করলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন নিহতের পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা। পরিস্থিতি এতটাই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে যে কড়া পুলিশি পাহারার পাশাপাশি র্যাফ (RAF) নামিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়।
এদিন দুপুর থেকেই হাওড়া আদালত চত্বরে ভিড় জমাতে শুরু করেন নিহত সফিকের আত্মীয়রা। তাঁদের দাবি ছিল একটাই — অভিযুক্তদের ফাঁসি! ধৃতদের উপর যাতে কোনও হামলা না হয়, তার জন্য বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করে পুলিশ। দুই মূল অভিযুক্ত হারুন ও রাফাকাতকে মাথায় হেলমেট পরিয়ে এবং পুলিশের কর্ডন করে কোর্ট লক-আপের সামনে নিয়ে আসা হয়। সেই সময় বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে ধৃতদের দিকে তেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। খুনিদের শাস্তির দাবিতে স্লোগানে কেঁপে ওঠে আদালত চত্বর।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ভোরে পিলখানায় পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে নৃশংসভাবে খুন করা হয় এক প্রোমোটারকে। ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছিল মূল অভিযুক্তরা। এর আগে চারজনকে গ্রেফতার করা হলেও অধরা ছিল হারুন ও রাফাকাত। সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, খুনের পর কলকাতা থেকে বিহার হয়ে দিল্লিতে পালিয়ে গিয়েছিল তারা। বৃহস্পতিবার দিল্লির জামা মসজিদ এলাকা থেকে সিআইডির একটি বিশেষ দল গোপন অভিযান চালিয়ে এই দুই মাস্টারমাইন্ডকে গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক তদন্তে সিআইডির অনুমান, প্রোমোটিং সংক্রান্ত বিবাদ বা পুরনো কোনও শত্রুতার জেরেই এই খুনের ছক কষা হয়েছিল। তবে, এর পিছনে আরও বড় কোনও চক্র রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চাইছে সিআইডি।
এদিন ধৃতদের আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দেন। অন্যদিকে, নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এলাকায় আধিপত্য কায়েম করতেই তাঁদের ছেলেকে পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত না দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হচ্ছে, ততক্ষণ তাঁদের প্রতিবাদ জারি থাকবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন