তেহরান: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দামামার মাঝেই নাটকীয় মোড়। প্রতিবেশী দেশগুলির উপর হামলা চালানোর ঘটনায় এবার নতিস্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন ইরানের অন্তর্বর্তী কাউন্সিলের প্রধান তথা প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলির সঙ্গে ইরানের কোনও শত্রুতা নেই। তবে, একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আত্মসমর্পণ’-এর দাবি নস্যাৎ করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
গত শনিবার মার্কিন ও ইজরায়েলি যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর তেহরানের রণকৌশলে বদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পেজেশকিয়ান জানান, সামরিক বাহিনীর মধ্যে ‘ভুল বোঝাবুঝির’ কারণে প্রতিবেশী দেশগুলিতে আঘাত লেগেছে। বাহরিন, জর্ডন বা সৌদি আরবের মতো দেশগুলি যদি ইরানের উপর হামলায় আমেরিকাকে মদত না দেয়, তবে ইরানও তাদের উপর আর কোনও আক্রমণ চালাবে না। শান্তি ফেরাতে তেহরান এখন প্রতিবেশীদের সঙ্গে সংঘাত এড়াতে বদ্ধপরিকর।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছিলেন, ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করতে হবে। এর জবাবে পেজেশকিয়ান অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় বলেন, “এটা ট্রাম্পের একটা স্বপ্ন এবং এই স্বপ্ন নিয়েই তাঁকে সমাধিস্থ হতে হবে।” অর্থাৎ, প্রতিবেশীদের প্রতি সুর নরম করলেও আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ইরান যে একচুলও জমি ছাড়বে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর দেশ চালানোর ভার এখন তিন সদস্যের অন্তর্বর্তী কাউন্সিলের হাতে। পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। খামেনেই-পুত্র মোজতবা খামেনেইয়ের নাম আলোচনায় থাকলেও সরকারিভাবে এখনও কোনও ঘোষণা করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান কৌশলগতভাবে প্রতিবেশীদের শান্ত রেখে শুধুমাত্র মার্কিন ও ইজরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে মনোযোগ দিতে চাইছে। একদিকে পড়শিদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং অন্যদিকে ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ — তেহরানের এই দ্বিমুখী নীতি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।
বিষয় : US Iran war

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন