নয়াদিল্লি: রান্নার গ্যাসের দাম একলাফে ৬০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যবিত্তের পকেটে টান পড়েছে আগেই। এদিকে, যুদ্ধের আগুনে দাউদাউ করে জ্বলছে পশ্চিম এশিয়া। ইরান বনাম ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাত শনিবার অষ্টম দিনে পড়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের জোগান নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ। তবে, এই ডামাডোলের মধ্যেও ভারতবাসীর জন্য স্বস্তির খবর শোনাল কেন্দ্র। সূত্রের খবর, পেট্রোল ও ডিজেলের দাম আপাতত বাড়ানোর কোনও পরিকল্পনা নেই নয়াদিল্লির।
পশ্চিম এশিয়ায় মিসাইল ও পাল্টা মিসাইল হামলা চললেও ভারতে খনিজ তেলের জোগানে কোনও টান পড়েনি বলে দাবি করেছে কেন্দ্র। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে, দেশের তেলের ভাণ্ডারে জোগান ক্রমশ বাড়ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা 'ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন' (IOC) ইতিমধ্যেই সৌদি আরবের ইয়ানবু থেকে অপরিশোধিত তেল আনার জন্য বেশ কিছু কার্গো ভাড়া করেছে। ফলে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকলেও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম স্থিতিশীল রাখার পথেই হাঁটছে মোদী সরকার।
এলএনজি বা লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস নিয়ে অবশ্য কিছুটা দুশ্চিন্তা দানা বেঁধেছে। দু’দিন আগেই কাতারের এলএনজি সংশোধনাগারে ইরানের হামলার জেরে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে কাতার। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ভারী শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় এই গ্যাসের সঙ্কটের মোকাবিলায় এবার রাশিয়ার দিকে হাত বাড়াতে পারে ভারত। নয়াদিল্লি সূত্রে খবর, রাশিয়া থেকে এলএনজি কেনার ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
সাধারণ মানুষের বোঝার সুবিধার্থে জানিয়ে রাখা ভালো, এলএনজি হল মূলত মিথেন সমৃদ্ধ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস। এটি বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে শুরু করে বড় বড় কারখানার জ্বালানি হিসাবে ব্যবহৃত হয়। কাতারের জোগান বন্ধ হওয়ায় ভারতের শিল্পক্ষেত্রে যাতে এর কোনও প্রভাব না পড়ে, সেই কারণেই রাশিয়ার থেকে গ্যাস আমদানির বিকল্প পথ খোলা রাখছে কেন্দ্র।
আপাতত পেট্রোল-ডিজেলের দাম না বাড়ার খবরে আমজনতা কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন