ঢাকা: বাংলাদেশে ফের দুই হিন্দু যুবকের হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় এবং শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে কক্সবাজার শহরে পৃথক দুটি ঘটনায় দুই সংখ্যালঘু যুবক নিহত হন। সাম্প্রতিক এই দুই ঘটনার পর নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৯ দিনের মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তত ছয়টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার ফুলবাড়ি বাজার এলাকায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে চয়ন রাজভর (৪০) নামে এক হিন্দু যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে শাহিন ফকির ও তার সহযোগীরা চয়নের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হামলায় তার ভাই নয়ন রাজভরসহ আরও দু’জন আহত হন।
এই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই প্রদীপ রাজভর সারিয়াকান্দি থানায় আটজনের নাম উল্লেখ করে মোট ১৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইতিমধ্যে পাঁচজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে বলে জানিয়েছেন সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম আসাদুজ্জামান।
চয়ন রাজভরের হত্যার প্রতিবাদে শনিবার সকালে তার পরিচালিত ‘দ্য নিউ কনটেস্ট’ কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীরা ফুলবাড়ি বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। পরে উপজেলা পরিষদ সড়ক অবরোধ করে তারা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অন্যদিকে, শনিবার দুপুরে কক্সবাজার শহরের বিজিবি ক্যাম্প পল্লানকাটা এলাকায় গণেশ পাল (২৯) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত গণেশ পাল স্থানীয় পৌরসভা মার্কেটের একজন মুদিখানা ব্যবসায়ী ছিলেন।
নিহতের পরিবার দাবি করেছে, নতুন বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে কিছু স্থানীয় যুবক তার কাছে চাঁদা দাবি করছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জিসান নামে এক চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও তার সহযোগীরা এই ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন জানিয়েছেন, চাঁদা সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রের শাসনভার গ্রহণ করে। এরপর থেকে বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, জমি দখল ও সহিংসতার অভিযোগ উঠছে। গত কয়েক সপ্তাহে চট্টগ্রাম ও মুন্সিগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তত ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির দাবি, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিটি ঘটনাই তদন্তাধীন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিষয় : Bangladesh HINDU Bangladeshi Hindu

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন