কলকাতা: বাংলার প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে এখন জল্পনার পারদ তুঙ্গে। আচমকা পদত্যাগের পর রবিবার সস্ত্রীক কলকাতায় পা রাখলেন তিনি। তবে, তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, কলকাতায় ফিরলেও তিনি নিজের পুরনো কর্মস্থল লোকভবনে (পূর্বতন রাজভবন) পা রাখেননি। আর, এই আবহে তাঁর সঙ্গে দেখা করে নতুন জল্পনা উস্কে দিলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ।
এক সময় রাজভবন ও নবান্নের সংঘাত ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। সেই প্রাক্তন রাজ্যপালের সঙ্গেই এদিন হাসিমুখে দেখা গেল কুণাল ঘোষকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের সাক্ষাতের ছবি পোস্ট করে কুণাল লেখেন, "সদ্য প্রাক্তন রাজ্যপাল ডঃ সি ভি আনন্দ বোস কলকাতায়। তীব্র অভিমানে রাজভবনে যাননি। শ্রীমতী বোস রাজভবনে গেছেন জিনিসপত্র গোছাতে। ততক্ষণ তাঁর সঙ্গে গল্প।"
কুণালের এই দাবি ঘিরে প্রশ্ন উঠছে, কার উপর এই অভিমান? কেন্দ্র না কি অন্য কেউ? আনন্দ বোস অবশ্য নিজের ইস্তফার কারণ নিয়ে এখনও মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তিনি শুধু জানিয়েছেন, "ভেবেচিন্তেই পদত্যাগ করেছি। কারণটা গোপনীয়, ঠিক সময়ে বলা হবে।"
এই সাক্ষাতের পর কুণাল ঘোষ আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এনেছেন। তিনি জানান, আনন্দ বোস এখন বাংলার ভোটার। কুণাল তাঁকে আসন্ন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করলে প্রাক্তন রাজ্যপাল সম্মতি দিয়ে বলেন, "আসব। ভোট দেব কলকাতাতেই।" এই মন্তব্য থেকে রাজনৈতিক মহলে ধারণা তৈরি হচ্ছে, প্রশাসনিক পদ ছাড়লেও বাংলার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইছেন না সিভি আনন্দ বোস।
এদিকে, আনন্দ বোসের অপসারণ বা ইস্তফা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও শনিবার রহস্যময় মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, "সিভি আনন্দ বোসকে কেন সরানো হয়েছে আমি সব জানি। কিন্তু বলব না। ভয় দেখানো হয়েছে, থ্রেট করা হয়েছে।" মুখ্যমন্ত্রীর এই 'ভয় দেখানো'র তত্ত্ব এবং কুণাল ঘোষের 'অভিমান'-এর দাবি — সব মিলিয়ে বাংলার প্রাক্তন রাজ্যপালের ইস্তফা যে নিছক ব্যক্তিগত কারণ নয়, তা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। অন্তত এমনটাই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
বিষয় : Rajyapal

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন