Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

এলপিজি সঙ্কটে জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী: ঘরোয়া গ্যাসে অগ্রাধিকার, ধুঁকছে হোটেল-রেস্তোরাঁ!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬
এলপিজি সঙ্কটে জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী: ঘরোয়া গ্যাসে অগ্রাধিকার, ধুঁকছে হোটেল-রেস্তোরাঁ!
ছবি সংগৃহীত

নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দাবানল ইতিমধ্যেই ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার উপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করায় ভারতে রান্নার গ্যাসের (LPG) জোগানে টান পড়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে মঙ্গলবার পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।


যুদ্ধের প্রভাবে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় সরকার কঠোর কৌশল গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল (IOC) জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের হেঁশেল সচল রাখতে ঘরোয়া সিলিন্ডার সরবরাহে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকেও তালিকায় রাখা হয়েছে।


তবে, এই অগ্রাধিকারের মাসুল গুনতে হচ্ছে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রকে। জোগানে টান পড়ায় মুম্বইয়ের প্রায় ২০ শতাংশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালিক-সংগঠন ‘আহার’। দেশের অন্যান্য শহরেও একই চিত্র দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে গ্যাসের জোগান পর্যালোচনার জন্য তিনজন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরকে নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।


প্রসঙ্গত, ভারত তার চাহিদার প্রায় ৮৮ শতাংশ পেট্রোপণ্য আমদানি করে। যার অর্ধেকই আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। বর্তমান অচলাবস্থা কাটাতে বিকল্প পথ এবং উৎসের সন্ধানে নেমেছে নয়াদিল্লি। রাশিয়া ও আমেরিকার পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকা এবং পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলির সঙ্গে তেল আমদানির বিষয়ে কথা চলছে। তৈশোধনাগারগুলিকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য কমিয়ে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। একইসঙ্গে, মজুতদারি রুখতে ঘরোয়া সিলিন্ডার বুকিংয়ের ব্যবধানের সময়সীমা ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে।


উল্লেখ্য, ভারতের বার্ষিক ৩ কোটি ১৩ লক্ষ টন এলপিজি ব্যবহারের ৮৭ শতাংশই যায় গৃহস্থালি খাতে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতের ৬২ শতাংশ এলপিজি আমদানি হয়। ফলে এই জলপথ অবরুদ্ধ হওয়ায় সরবরাহ বজায় রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম (HPCL) জানিয়েছে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলেও উৎপাদন বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

আপাতত সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাত্রাকে সুরক্ষা দিতেই কেন্দ্রের ‘গৃহস্থালি প্রথম’ নীতি। তবে, এর ফলে হোটেল-রেস্তোরাঁ শিল্পে যে বড়সড় ধাক্কা লাগতে চলেছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘ইন্ডিয়া হোটেলস অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন’।

বিষয় : NarendraModi indiaenergysecurity LPGCrisis MiddleEastConflict

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


এলপিজি সঙ্কটে জরুরি বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী: ঘরোয়া গ্যাসে অগ্রাধিকার, ধুঁকছে হোটেল-রেস্তোরাঁ!

প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দাবানল ইতিমধ্যেই ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার উপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করায় ভারতে রান্নার গ্যাসের (LPG) জোগানে টান পড়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে মঙ্গলবার পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।যুদ্ধের প্রভাবে সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় সরকার কঠোর কৌশল গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল (IOC) জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের হেঁশেল সচল রাখতে ঘরোয়া সিলিন্ডার সরবরাহে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকেও তালিকায় রাখা হয়েছে।তবে, এই অগ্রাধিকারের মাসুল গুনতে হচ্ছে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রকে। জোগানে টান পড়ায় মুম্বইয়ের প্রায় ২০ শতাংশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালিক-সংগঠন ‘আহার’। দেশের অন্যান্য শহরেও একই চিত্র দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে গ্যাসের জোগান পর্যালোচনার জন্য তিনজন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরকে নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।প্রসঙ্গত, ভারত তার চাহিদার প্রায় ৮৮ শতাংশ পেট্রোপণ্য আমদানি করে। যার অর্ধেকই আসে হরমুজ প্রণালী দিয়ে। বর্তমান অচলাবস্থা কাটাতে বিকল্প পথ এবং উৎসের সন্ধানে নেমেছে নয়াদিল্লি। রাশিয়া ও আমেরিকার পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকা এবং পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলির সঙ্গে তেল আমদানির বিষয়ে কথা চলছে। তৈশোধনাগারগুলিকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য কমিয়ে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। একইসঙ্গে, মজুতদারি রুখতে ঘরোয়া সিলিন্ডার বুকিংয়ের ব্যবধানের সময়সীমা ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে।উল্লেখ্য, ভারতের বার্ষিক ৩ কোটি ১৩ লক্ষ টন এলপিজি ব্যবহারের ৮৭ শতাংশই যায় গৃহস্থালি খাতে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতের ৬২ শতাংশ এলপিজি আমদানি হয়। ফলে এই জলপথ অবরুদ্ধ হওয়ায় সরবরাহ বজায় রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম (HPCL) জানিয়েছে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলেও উৎপাদন বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।আপাতত সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাত্রাকে সুরক্ষা দিতেই কেন্দ্রের ‘গৃহস্থালি প্রথম’ নীতি। তবে, এর ফলে হোটেল-রেস্তোরাঁ শিল্পে যে বড়সড় ধাক্কা লাগতে চলেছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘ইন্ডিয়া হোটেলস অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন’।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার