Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

মুসলিম মহিলাদের উত্তরাধিকার বিতর্ক: ‘সমাধান সেই ইউনিফর্ম সিভিল কোডই’, পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬
মুসলিম মহিলাদের উত্তরাধিকার বিতর্ক: ‘সমাধান সেই ইউনিফর্ম সিভিল কোডই’, পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের!
AI GENERATED IMAGE

নয়াদিল্লি: মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে (Muslim Personal Law) মহিলাদের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বৈষম্য দূর করতে একক সমাধান হতে পারে 'ইউনিফর্ম সিভিল কোড' বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। মঙ্গলবার একটি মামলার শুনানিতে এমনই তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, ব্যক্তিগত আইনের জটিলতা কাটাতে আদালতের একক হস্তক্ষেপের চেয়ে আইনসভার মাধ্যমে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রণয়নই হবে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান।


১৯৩৭ সালের 'মুসলিম পার্সোনাল ল (শরিয়ত) অ্যাপ্লিকেশন অ্যাক্ট'-কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করা হয়েছিল। আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ সওয়াল করেন, উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে মুসলিম মহিলারা পুরুষদের সমান অধিকার পান না। অনেক সময় পুরুষরা যা পান, মহিলারা পান তার অর্ধেক। এটি সংবিধানের সমতার নীতির পরিপন্থী। প্রশান্ত ভূষণ যুক্তি দেন, উত্তরাধিকার কোনও ধর্মীয় মৌলিক অনুশীলন (Essential Religious Practice) নয়, বরং এটি একটি নাগরিক অধিকার।


শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, আদালত যদি এক ঝটকায় ব্যক্তিগত আইন বাতিল করে দেয়, তবে একটি আইনি শূন্যতা তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত আইন সম্পূর্ণ বদলে দেওয়ার কাজ মূলত আইনসভার। এরপরই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “The answer, as correctly said, is the Uniform Civil Code.” 


আদালতের মতে, শুধুমাত্র সংস্কারের তাড়াহুড়োয় কোনো তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। কারণ, এতে হিতে বিপরীত হতে পারে এবং মুসলিম মহিলারা বর্তমানে যা পাচ্ছেন, আইনি জটিলতায় তা-ও হারাতে পারেন।


বেঞ্চ আবেদনকারীদের কাছে জানতে চায়, যদি ১৯৩৭ সালের আইনটি বাতিল করা হয়, তবে তার জায়গায় কোন আইন কার্যকর হবে? প্রশান্ত ভূষণ 'ইন্ডিয়ান সাকসেশন অ্যাক্ট' (Indian Succession Act)-এর কথা প্রস্তাব দেন। তবে, আদালত এখনই চূড়ান্ত কোনও পথে হাঁটতে রাজি হয়নি। বিচারপতিরা মনে করিয়ে দেন, ব্যক্তিগত আইনকে সরাসরি সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরীক্ষায় ফেলা যায় কিনা, তা নিয়ে আইনি বিতর্ক রয়েছে।


সুপ্রিম কোর্ট শেষ পর্যন্ত মামলাটি খারিজ করেনি। তবে,  আবেদনকারীদের তাদের পিটিশন সংশোধন করার পরামর্শ দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি বলেন, “আপনারা আবেদনটি সংশোধন করুন এবং কিছু বিকল্প প্রস্তাব দিন। লক্ষ্য একটাই - মহিলারা যাতে অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।”


প্রসঙ্গত, সংবিধানের ৪৪ নম্বর অনুচ্ছেদে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির কথা বলা থাকলেও তা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক দীর্ঘদিনের। কিন্তু, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের মঙ্গলবারের এই মন্তব্য সেই বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।

বিষয় : Supreme Court of India newdelhi indian succession act

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


মুসলিম মহিলাদের উত্তরাধিকার বিতর্ক: ‘সমাধান সেই ইউনিফর্ম সিভিল কোডই’, পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের!

প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬

featured Image
নয়াদিল্লি: মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে (Muslim Personal Law) মহিলাদের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বৈষম্য দূর করতে একক সমাধান হতে পারে 'ইউনিফর্ম সিভিল কোড' বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। মঙ্গলবার একটি মামলার শুনানিতে এমনই তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, ব্যক্তিগত আইনের জটিলতা কাটাতে আদালতের একক হস্তক্ষেপের চেয়ে আইনসভার মাধ্যমে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রণয়নই হবে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান।১৯৩৭ সালের 'মুসলিম পার্সোনাল ল (শরিয়ত) অ্যাপ্লিকেশন অ্যাক্ট'-কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করা হয়েছিল। আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ সওয়াল করেন, উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে মুসলিম মহিলারা পুরুষদের সমান অধিকার পান না। অনেক সময় পুরুষরা যা পান, মহিলারা পান তার অর্ধেক। এটি সংবিধানের সমতার নীতির পরিপন্থী। প্রশান্ত ভূষণ যুক্তি দেন, উত্তরাধিকার কোনও ধর্মীয় মৌলিক অনুশীলন (Essential Religious Practice) নয়, বরং এটি একটি নাগরিক অধিকার।শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, আদালত যদি এক ঝটকায় ব্যক্তিগত আইন বাতিল করে দেয়, তবে একটি আইনি শূন্যতা তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত আইন সম্পূর্ণ বদলে দেওয়ার কাজ মূলত আইনসভার। এরপরই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “The answer, as correctly said, is the Uniform Civil Code.” আদালতের মতে, শুধুমাত্র সংস্কারের তাড়াহুড়োয় কোনো তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। কারণ, এতে হিতে বিপরীত হতে পারে এবং মুসলিম মহিলারা বর্তমানে যা পাচ্ছেন, আইনি জটিলতায় তা-ও হারাতে পারেন।বেঞ্চ আবেদনকারীদের কাছে জানতে চায়, যদি ১৯৩৭ সালের আইনটি বাতিল করা হয়, তবে তার জায়গায় কোন আইন কার্যকর হবে? প্রশান্ত ভূষণ 'ইন্ডিয়ান সাকসেশন অ্যাক্ট' (Indian Succession Act)-এর কথা প্রস্তাব দেন। তবে, আদালত এখনই চূড়ান্ত কোনও পথে হাঁটতে রাজি হয়নি। বিচারপতিরা মনে করিয়ে দেন, ব্যক্তিগত আইনকে সরাসরি সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরীক্ষায় ফেলা যায় কিনা, তা নিয়ে আইনি বিতর্ক রয়েছে।সুপ্রিম কোর্ট শেষ পর্যন্ত মামলাটি খারিজ করেনি। তবে,  আবেদনকারীদের তাদের পিটিশন সংশোধন করার পরামর্শ দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি বলেন, “আপনারা আবেদনটি সংশোধন করুন এবং কিছু বিকল্প প্রস্তাব দিন। লক্ষ্য একটাই - মহিলারা যাতে অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।”প্রসঙ্গত, সংবিধানের ৪৪ নম্বর অনুচ্ছেদে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির কথা বলা থাকলেও তা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক দীর্ঘদিনের। কিন্তু, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের মঙ্গলবারের এই মন্তব্য সেই বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার