Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

তেলসংকটে ঢাকায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পাম্প

সংবাদদাতা, ঢাকা
সংবাদদাতা, ঢাকা
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬
তেলসংকটে ঢাকায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পাম্প
ছবি সংগৃহীত

ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারে। বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা এবং আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটার কারণে রাজধানী ঢাকার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ থাকতে দেখা গেছে।


রাজধানীর মগবাজারের মহিন মোটরস ফিলিং স্টেশন মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে বন্ধ অবস্থায় দেখা যায়। পাম্পটির কর্মচারী নুর আলম জানান, গত বৃহস্পতিবার তারা শেষবার তেল পেয়েছিলেন এবং শনিবার পর্যন্ত তা বিক্রি হয়েছে। এরপর গত দুই দিন ডিপো থেকে কোনো তেল সরবরাহ না পাওয়ায় বিক্রি বন্ধ রাখতে হয়েছে।

তিনি জানান, মঙ্গলবার আবার ডিপোতে তেলের গাড়ি পাঠানো হয়েছে, তবে তেল পাওয়া যাবে কি না তা এখনও নিশ্চিত নয়।


গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানও পাল্টা জবাব দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাতের কারণে তেল ও গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে দেশে অনেক মানুষ অতিরিক্ত জ্বালানি কিনতে শুরু করেছেন। এতে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে এবং মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে।

সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শেওড়াপাড়া থেকে আগারগাঁওয়ের তালতলা এলাকায় দুটি ফিলিং স্টেশন বন্ধ দেখা যায়। পরীবাগের পূর্বাচল ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশন-এর সামনে লেখা ছিল—“অকটেন, পেট্রোল নেই”।

পাম্পটির ক্যাশিয়ার দুলাল জানান, ডিপো থেকে তেল সরবরাহ না পাওয়ায় বিক্রি বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যে তেলের গাড়ি আসতে পারে বলে আশা করছেন তারা।


মতিঝিলের কারিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশন-এও তেল না থাকায় বিক্রি বন্ধ ছিল। পাম্পটির মালিক আবদুস সালাম জানান, আগে প্রতিদিন ডিপো থেকে প্রায় ৩০ হাজার লিটার তেল পাওয়া গেলেও গত দুই দিন তারা পেয়েছেন মাত্র ১৩ হাজার লিটার।


দুপুরে দৈনিক বাংলা মোড়ে অবস্থিত বিনিময় ফিলিং স্টেশন-এও তেল না থাকায় পাম্প বন্ধ করে রাখা হয়। তবে একই সময়ে পরীবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিসিং সেন্টার ফিলিং স্টেশন এবং রমনা ফিলিং স্টেশন-এ তেল বিক্রি চলছিল। এসব পাম্পের সামনে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তেল সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত বাজারে অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে।

বিষয় : Bangladesh MIDDLEEASTWAR #Dhaka FuelCrisis OilShortage GlobalOilMarket

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


তেলসংকটে ঢাকায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পাম্প

প্রকাশের তারিখ : ১১ মার্চ ২০২৬

featured Image
ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারে। বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা এবং আতঙ্কে অতিরিক্ত কেনাকাটার কারণে রাজধানী ঢাকার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ থাকতে দেখা গেছে।রাজধানীর মগবাজারের মহিন মোটরস ফিলিং স্টেশন মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে বন্ধ অবস্থায় দেখা যায়। পাম্পটির কর্মচারী নুর আলম জানান, গত বৃহস্পতিবার তারা শেষবার তেল পেয়েছিলেন এবং শনিবার পর্যন্ত তা বিক্রি হয়েছে। এরপর গত দুই দিন ডিপো থেকে কোনো তেল সরবরাহ না পাওয়ায় বিক্রি বন্ধ রাখতে হয়েছে।তিনি জানান, মঙ্গলবার আবার ডিপোতে তেলের গাড়ি পাঠানো হয়েছে, তবে তেল পাওয়া যাবে কি না তা এখনও নিশ্চিত নয়।গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানও পাল্টা জবাব দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাতের কারণে তেল ও গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।এই পরিস্থিতিতে দেশে অনেক মানুষ অতিরিক্ত জ্বালানি কিনতে শুরু করেছেন। এতে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে এবং মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে।সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শেওড়াপাড়া থেকে আগারগাঁওয়ের তালতলা এলাকায় দুটি ফিলিং স্টেশন বন্ধ দেখা যায়। পরীবাগের পূর্বাচল ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশন-এর সামনে লেখা ছিল—“অকটেন, পেট্রোল নেই”।পাম্পটির ক্যাশিয়ার দুলাল জানান, ডিপো থেকে তেল সরবরাহ না পাওয়ায় বিক্রি বন্ধ রাখতে হয়েছে। তবে কিছুক্ষণের মধ্যে তেলের গাড়ি আসতে পারে বলে আশা করছেন তারা।মতিঝিলের কারিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশন-এও তেল না থাকায় বিক্রি বন্ধ ছিল। পাম্পটির মালিক আবদুস সালাম জানান, আগে প্রতিদিন ডিপো থেকে প্রায় ৩০ হাজার লিটার তেল পাওয়া গেলেও গত দুই দিন তারা পেয়েছেন মাত্র ১৩ হাজার লিটার।দুপুরে দৈনিক বাংলা মোড়ে অবস্থিত বিনিময় ফিলিং স্টেশন-এও তেল না থাকায় পাম্প বন্ধ করে রাখা হয়। তবে একই সময়ে পরীবাগের মেঘনা মডেল সার্ভিসিং সেন্টার ফিলিং স্টেশন এবং রমনা ফিলিং স্টেশন-এ তেল বিক্রি চলছিল। এসব পাম্পের সামনে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তেল সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত বাজারে অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার