উদয়নারায়ণপুর: উৎসবের আলো আর আনন্দের মাঝে চরম বিষাদ। হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে পাড়ার কালীপুজোর মণ্ডপ থেকে ফিরে আত্মঘাতী হল এক কিশোরী। অভিযোগের আঙুল এলাকারই এক সিভিক ভলান্টিয়ারের দিকে। শ্লীলতাহানির অপমান সহ্য করতে না পেরেই ওই কিশোরী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে বলে দাবি পরিবারের। এই ঘটনায় অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই কিশোরী রাতে মায়ের সঙ্গে আমতা এলাকায় একটি কালীপুজোর অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, সেখানে তাদের পিছন পিছন যায় এলাকারই এক যুবক, যে পেশায় পেঁড়ো থানার সিভিক ভলান্টিয়ার। পুজোর ভিড়ের সুযোগ নিয়ে ওই কিশোরীর শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ। সেই সময় বিষয়টি নিয়ে মণ্ডপ চত্বরেই চিৎকার-চেঁচামেচি এবং উত্তেজনা তৈরি হয়। এলাকার মানুষ জড়ো হয়ে গেলে চরম অপমানিত বোধ করে ওই কিশোরী।
মণ্ডপ থেকে ফেরার পথে কিশোরীটি তার মাকে সমস্ত কথা জানায়। বাড়ি ফিরে খাওয়া-দাওয়া সেরে নিজের ঘরে ঘুমাতে চলে যায় সে। পরিবারের সদস্যরা বিন্দুমাত্র আঁচ করতে পারেননি যে অপমানের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে এমন ভয়ঙ্কর কোনও পদক্ষেপ নেবে সে। পরে ঘর থেকে কিশোরীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।
ঘটনার খবর চাউর হতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভও দেখানো হয়। কিশোরীর পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইন এবং আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার মামলা রুজু করা হয়েছে।
নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজনের হাতেই কীভাবে একজন কিশোরী এমন লাঞ্ছনার শিকার হলো, তা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন