কলকাতা: রাজনীতির ময়দানে আদায়-কাঁচকলায় সম্পর্ক হতে পারে। কিন্তু, ব্যক্তিগত সৌজন্যে যে এখনও বাংলা অপ্রতিদ্বন্দ্বী, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার লোকভবনে রাজ্যের নতুন রাজ্যপাল আর এন রবির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর শ্রদ্ধা ও সৌজন্য সকলেরই নজর কাড়ল!
শপথ অনুষ্ঠানের আসন বিন্যাস অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী এবং স্পিকারের আসন ছিল প্রথম সারিতে। অন্যদিকে, প্রবীণ বাম নেতা বিমান বসুর আসন বরাদ্দ ছিল তৃতীয় সারিতে। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে বিমান বসুকে পিছনে বসতে দেখেই কার্যত ছুটে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আরে বিমানদা, আপনি এসেছেন! পিছনে কেন বসে? সামনে আসুন।” প্রথমে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধে তিনি দ্বিতীয় সারিতে এসে বসেন। কিন্তু, সৌজন্য সেখানেই থামেনি। মেয়র ফিরহাদ হাকিম উপস্থিত না থাকায় তাঁর পাশের আসনটি ফাঁকা ছিল। মুখ্যমন্ত্রী জোরাজুরি করে বিমান বসুকে নিজের পাশে প্রথম সারির আসনে বসান। অশীতিপর নেতার প্রতি এই সম্মান প্রদর্শন দেখে উপস্থিত অনেকেই চমকে যান!
অনুষ্ঠান শেষে আরও এক প্রস্থ সৌজন্যের সাক্ষী থাকল লোকভবনের দক্ষিণ পোর্টিকো। অনুষ্ঠান সেরে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেখেন, চড়া রোদে নিজের গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছেন ৮৩ বছর বয়সের বিমান বসু। নিজের গাড়ি চলে আসা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী তাতে ওঠেননি। বরং বলেন, “আগে বিমানদার গাড়ি আসুক। ওঁকে গাড়িতে তুলে দিয়ে তারপর আমি উঠব।” প্রবীণ নেতার গাড়ি আসা পর্যন্ত ঠায় দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি এবং নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তাঁকে বিদায় জানান।
মুখ্যমন্ত্রীর এই আচরণে দৃশ্যতই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বিমান বসু। বর্তমান সময়ের কাদা ছোড়াছুড়ির রাজনীতির মাঝে এই বিরল সম্মান পেয়ে কাঁপা গলায় শুধু ‘ধন্যবাদ’টুকু বলতে পেরেছেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মতাদর্শের লড়াই থাকলেও প্রবীণদের সম্মান জানানোর যে বাংলার চিরাচরিত সংস্কৃতি, এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেটাই ফের একবার জনসমক্ষে তুলে ধরলেন।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন