Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

ডলারের দাদাগিরি শেষ? চিনা ইউয়ানে তেল বাণিজ্যের শর্তে হরমুজ প্রণালী খুলতে পারে ইরান!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬
ডলারের দাদাগিরি শেষ? চিনা ইউয়ানে তেল বাণিজ্যের শর্তে হরমুজ প্রণালী খুলতে পারে ইরান!

পশ্চিম এশিয়ায় ঘনীভূত যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN)-এর সূত্র অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেলপথ 'স্ট্রেট অব হরমুজ' বা হরমুজ প্রণালী দিয়ে সীমিত সংখ্যক তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে পারে তেহরান। তবে, এর জন্য মানতে হবে একটি অভূতপূর্ব শর্ত! তেলের লেনদেন করতে হবে মার্কিন ডলারের বদলে চিনের মুদ্রা ইউয়ানে (Chinese Yuan)!


গত ৫০ বছর ধরে বিশ্ব বাজারে তেলের লেনদেন মূলত মার্কিন ডলারেই হয়ে আসছে। যা ‘পেট্রোডলার সিস্টেম’ নামে পরিচিত। ইরানের এই এক শর্তে সেই কয়েক দশকের একাধিপত্য ধুলোয় মিশে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মতো দেশগুলির তেল রফতানির প্রধান রুট এটি। ফলে, এই পথে ইউয়ানে লেনদেন শুরু হওয়া মানে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে ডলারের গুরুত্ব এক ধাক্কায় অনেকটা কমে যাওয়া।


ইরানের তেলের সবথেকে বড় ক্রেতা চিন। ইতিমধ্যেই ইরান থেকে চিনে রফতানি হওয়া তেলের প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ লেনদেন ইউয়ানেই হচ্ছে। চিন তাদের নিজস্ব আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা CIPS (Cross-Border Interbank Payment System) তৈরি করেছে। যা পশ্চিমী SWIFT ব্যবস্থার বিকল্প। ২০২৫ সালে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ১৭৫ ট্রিলিয়ন ইউয়ান লেনদেন হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন ব্রিকস (BRICS) দেশগুলির জন্য ইউয়ানভিত্তিক একটি আলাদা বাজার তৈরির ছক কষছে।


যদি সত্যিই ডলার বাদ দিয়ে ইউয়ানে তেল বাণিজ্য শুরু হয়, তবে তার প্রভাব পড়বে সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে। আন্তর্জাতিক বিমা সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই এই পথে যাতায়াত করা জাহাজের বিমা বন্ধ করে দেওয়ায় তেলের দাম বাড়ছে। পরিবহণ খরচ ও বিমানের জ্বালানির দাম বাড়লে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছতে পারে।


আমেরিকা বছরের পর বছর ধরে তেলের বাজারে ডলারের আধিপত্য বজায় রেখেছে। সেই প্রেক্ষাপটে ইরানের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ ওয়াশিংটনের জন্য যে চরম দুশ্চিন্তার কারণ, তা বলাই বাহুল্য। যদিও ইরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করেনি। তবে, কূটনৈতিক মহলে এই ‘ইউয়ান চাল’ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

বিষয় : #IranTransition #KhameneiSuccessor #CIA #RezaPahlavi #TehranBreaking #GlobalPolitics #MiddleEastUpdate #IranCrisis iranpolitics hormujstrait chinanews oilcrisis ইরান চিন হরমুজ তেল বাণিজ্য ইরান যুদ্ধ

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


ডলারের দাদাগিরি শেষ? চিনা ইউয়ানে তেল বাণিজ্যের শর্তে হরমুজ প্রণালী খুলতে পারে ইরান!

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মার্চ ২০২৬

featured Image
পশ্চিম এশিয়ায় ঘনীভূত যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN)-এর সূত্র অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেলপথ 'স্ট্রেট অব হরমুজ' বা হরমুজ প্রণালী দিয়ে সীমিত সংখ্যক তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে পারে তেহরান। তবে, এর জন্য মানতে হবে একটি অভূতপূর্ব শর্ত! তেলের লেনদেন করতে হবে মার্কিন ডলারের বদলে চিনের মুদ্রা ইউয়ানে (Chinese Yuan)!গত ৫০ বছর ধরে বিশ্ব বাজারে তেলের লেনদেন মূলত মার্কিন ডলারেই হয়ে আসছে। যা ‘পেট্রোডলার সিস্টেম’ নামে পরিচিত। ইরানের এই এক শর্তে সেই কয়েক দশকের একাধিপত্য ধুলোয় মিশে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মতো দেশগুলির তেল রফতানির প্রধান রুট এটি। ফলে, এই পথে ইউয়ানে লেনদেন শুরু হওয়া মানে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে ডলারের গুরুত্ব এক ধাক্কায় অনেকটা কমে যাওয়া।ইরানের তেলের সবথেকে বড় ক্রেতা চিন। ইতিমধ্যেই ইরান থেকে চিনে রফতানি হওয়া তেলের প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ লেনদেন ইউয়ানেই হচ্ছে। চিন তাদের নিজস্ব আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা CIPS (Cross-Border Interbank Payment System) তৈরি করেছে। যা পশ্চিমী SWIFT ব্যবস্থার বিকল্প। ২০২৫ সালে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ১৭৫ ট্রিলিয়ন ইউয়ান লেনদেন হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন ব্রিকস (BRICS) দেশগুলির জন্য ইউয়ানভিত্তিক একটি আলাদা বাজার তৈরির ছক কষছে।যদি সত্যিই ডলার বাদ দিয়ে ইউয়ানে তেল বাণিজ্য শুরু হয়, তবে তার প্রভাব পড়বে সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে। আন্তর্জাতিক বিমা সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই এই পথে যাতায়াত করা জাহাজের বিমা বন্ধ করে দেওয়ায় তেলের দাম বাড়ছে। পরিবহণ খরচ ও বিমানের জ্বালানির দাম বাড়লে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছতে পারে।আমেরিকা বছরের পর বছর ধরে তেলের বাজারে ডলারের আধিপত্য বজায় রেখেছে। সেই প্রেক্ষাপটে ইরানের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ ওয়াশিংটনের জন্য যে চরম দুশ্চিন্তার কারণ, তা বলাই বাহুল্য। যদিও ইরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা করেনি। তবে, কূটনৈতিক মহলে এই ‘ইউয়ান চাল’ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার