কলকাতা: ৭ মার্চ ২০২১ বনাম ১৪ মার্চ ২০২৬ - পাঁচ বছরে গঙ্গার জল অনেক দূর গড়িয়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখে ‘দিদি ও দিদি’ ডাক নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছিল। যা শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের ‘বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়’ আবেগের কাছে বুমেরাং হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ব্রিগেডের মঞ্চে দেখা গেল এক সম্পূর্ণ বদলে যাওয়া মোদীকে। এবার তিনি মুখ্যমন্ত্রীর নাম না নিয়ে সরাসরি আক্রমণ শানালেন ‘আপনি’ বা ‘উনি’ সম্বোধনে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি মোদীর এক সুচিন্তিত অবস্থান। সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না নিয়ে তিনি তিনটি লক্ষ্য পূরণ করতে চেয়েছেন। প্রথমত, বাংলার বুদ্ধিজীবী মহলের কাছে মার্জিত আক্রমণের বার্তা দেওয়া। দ্বিতীয়ত, নাম উচ্চারণ না করে রাজনৈতিকভাবে তাঁর গুরুত্ব কমিয়ে আনা। এবং তৃতীয়ত, রাজ্যের মহিলা ভোটারদের মধ্যেকার সেন্টিমেন্টকে কোনওভাবেই ক্ষুণ্ণ না করা।
তবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের নাম না নিলেও মোদীর আক্রমণ ছিল শাণিত। প্রধানমন্ত্রী এদিন সংবিধানের চেয়ারে বসে নির্দিষ্ট ‘কমিউনিটি’র মাধ্যমে হুমকি দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, “সংবিধানের চেয়ারে বসে এই ধরনের হুমকি আপনার মুখে শোভা পায় না। কারা এরা, যারা তৃণমূলের ইশারায় কোটি কোটি মানুষকে খতম করার ভয় দেখায়?” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, বিজেপি সরকারে এলে গুন্ডারাই ভয়ে কাঁপবে।
এদিনের সভা থেকে মোদী অভিযোগ করেন, ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় এলেও আজ বাংলার মা কাঁদছে, মাটি লুট হচ্ছে আর মানুষ কাজ হারিয়ে রাজ্য ছাড়ছে। তিনি দাবি করেন, “তৃণমূল কট্টরপন্থীদের সুরক্ষা দিচ্ছে এবং অনুপ্রবেশকারীদের ডেকে আনছে। বাংলার ডেমোগ্রাফি বদলে দেওয়া হচ্ছে এবং হিন্দুদের সংখ্যালঘু করার চক্রান্ত চলছে।” এছাড়াও ভোটার লিস্টে মৃত ভোটারদের নাম রাখা এবং শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিরোধিতার জন্য তিনি পরোক্ষভাবে রাজ্যের শাসকদলকে দায়ী করেন মোদী।
সরাসরি ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে নীতির লড়াইয়ে ফিরে আসা মোদীর এই নয়া স্ট্র্যাটেজি রাজ্যের ভোটযুদ্ধে বিজেপিকে কতটা সুবিধা দেয়, এখন সেটাই দেখার।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন