বিশ্বের শ্রেষ্ঠ পানীয় দার্জিলিং চায়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ। পর্যাপ্ত শিল্প এলপিজি (Industrial LPG) গ্যাসের অভাবে এবার উৎপাদনে বড়সড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি দার্জিলিং টি অ্যাসোসিয়েশন এই বিষয়ে চা বোর্ডের ডেপুটি চেয়ারম্যানকে চিঠি লিখে সতর্ক করেছে। যদি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হয়, তবে পাহাড়ি অঞ্চলের চা কারখানাগুলি বন্ধের মুখে পড়তে পারে।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের সাম্প্রতিক এক নির্দেশে বলা হয়েছে, তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে কেনা এলপিজি শুধুমাত্র গৃহস্থালির কাজের জন্য সরবরাহ করতে হবে। চা শিল্পের প্রতিনিধিদের মতে, এই নির্দেশ কার্যকর হলে চা বাগানগুলোর কারখানায় ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। গত এক দশকে দূষণ কমাতে অধিকাংশ বাগান কয়লা ছেড়ে এলপিজি-র ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, তাই এই সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়বেন ৫৫ হাজার স্থায়ী শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার।
পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৯০ সালে যেখানে উৎপাদন ছিল ১ কোটি ৪০ লক্ষ কেজি, তা বর্তমানে কমে ৬০ লক্ষ কেজির নিচে নেমে এসেছে। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে উৎপাদন এক নতুন ঐতিহাসিক নিম্নস্তরে পৌঁছেছে। গত বছরের তুলনায় ২০২৫ সালে উৎপাদন কমেছে প্রায় ৮.৭৯ শতাংশ। এর প্রধান কারণগুলো হলো, পুরানো চা গাছ বদলে নতুন গাছ লাগানোর অভাব। নেপাল থেকে আসা সস্তা চায়ের দাপটে ভারতের বাজারে দার্জিলিং চায়ের দাম কমে যাওয়া।
সবচেয়ে বেশি চিন্তার বিষয় হলো আসন্ন ‘ফার্স্ট ফ্লাশ’ (First Flush)। এই সময়ের চায়ের স্বাদ ও গন্ধ বিশ্ববাজারে সেরা সমাদর পায় এবং সবথেকে বেশি দামে বিদেশে রপ্তানি করা হয়। ঠিক এই মুহূর্তেই যদি গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হয়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের চা ব্যবসায় বড়সড় ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে। টি অ্যাসোসিয়েশন তাই অবিলম্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে যাতে শিল্প এলপিজি-র সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখা হয়।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন