Hidden Stories (বাংলা)
সর্বশেষ

অভিষেকের ‘পারফরম্যান্স’ নীতিতে কুপোকাত হেভিওয়েটরা: বাদ ৩৩ শতাংশ বিধায়ক, ১৫ জনের কেন্দ্রবদল

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৬
অভিষেকের ‘পারফরম্যান্স’ নীতিতে কুপোকাত হেভিওয়েটরা: বাদ ৩৩ শতাংশ বিধায়ক, ১৫ জনের কেন্দ্রবদল

কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় এবার বড়সড় রদবদল। দলের প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এবার আবেগের চেয়েও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে গত পাঁচ বছরের ‘পারফরম্যান্স’। ১৫ বছরের প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা কাটিয়ে ক্ষমতায় ফিরতে ‘কাজ করলে পদে, নইলে পথে’—অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কড়া বার্তাই প্রতিফলিত হয়েছে ২৯১ জনের তালিকায়।


বাদ পড়লেন ৩৩ শতাংশ বিধায়ক

তৃণমূলের ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে বড় ঝাড়াই-বাছাই প্রক্রিয়া চলল। দলের মোট ৭৪ জন বিধায়ক এবার টিকিট পাননি। অর্থাৎ বর্তমান বিধায়কদের প্রায় ৩৩ শতাংশকে এবার বাতিলের খাতায় রেখেছে জোড়াফুল শিবির। দলীয় সূত্রে খবর, আইপ্যাক (I-PAC)-এর সমীক্ষা এবং সাংগঠনিক সক্রিয়তা বিচার করেই এই কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শহর ও মফস্সল এলাকায় যেখানে লোকসভা ভোটে সমর্থন আলগা হয়েছিল, সেখানেই ছাঁটাইয়ের কোপ পড়েছে সবচেয়ে বেশি।


তালিকায় বাদ পড়া উল্লেখযোগ্য নামের মধ্যে রয়েছেন:


তারকা ও হেভিওয়েট: চিরঞ্জিত চক্রবর্তী (বারাসত), কাঞ্চন মল্লিক (উত্তরপাড়া), মনোরঞ্জন ব্যাপারী (বলাগড়)।

মন্ত্রী ও প্রবীণ: মনোজ তিওয়ারি, বিপ্লব রায়চৌধুরী, জোৎস্না মান্ডি, তাজমুল হোসেন।

বিতর্কিত মুখ: নিয়োগ দুর্নীতিতে জেলবন্দি মানিক ভট্টাচার্য ও জীবনকৃষ্ণ সাহা।


কেন্দ্রবদল ও নতুন মুখ

ক্লিন ইমেজের স্বার্থে এবং প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা এড়াতে ১৫ জন বিধায়ককে (৭ শতাংশ) পুরনো আসন বদলে নতুন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন শওকত মোল্লা (ভাঙড়), সোহম চক্রবর্তী (করিমপুর), রত্না চট্টোপাধ্যায় (বেহালা পশ্চিম)-এর মতো নাম।


অন্যদিকে, সারাবছর সংগঠনের কাজে সক্রিয় থাকা ‘টিম অভিষেক’-এর তরুণ তুর্কিরা এবার বড় সুযোগ পেয়েছেন। চুঁচুড়ায় দেবাংশু ভট্টাচার্য, নোয়াপাড়ায় তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য, খড়দহে দেবদীপ পুরোহিত এবং বেলেঘাটায় কুণাল ঘোষের নাম সেই জল্পনাকেই সিলমোহর দিয়েছে। ফিরে এসেছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো পুরনো নেতারাও।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই তালিকায় নবীন-প্রবীণের ভারসাম্যের চেয়েও বড় বার্তা হলো ‘অ্যাকাউন্টেবিলিটি’। আইপ্যাক-এর মাঠ পর্যায়ের রিপোর্ট এবং গত পাঁচ বছরের কাজের নিরিখে যারা ফেল করেছেন, তাঁদের সপাটে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্তমান এবং হবু বিধায়কদের কাছে বার্তা খুব পরিষ্কার—জনগণের কাজ না করলে দলের অন্দরে টিকিটের কোনো গ্যারান্টি নেই।

বিষয় : 2026Election WESTBENGAL TMC ABHISEKH BANERJEE PoliticalLegend

আপনার মতামত লিখুন

Hidden Stories (বাংলা)

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬


অভিষেকের ‘পারফরম্যান্স’ নীতিতে কুপোকাত হেভিওয়েটরা: বাদ ৩৩ শতাংশ বিধায়ক, ১৫ জনের কেন্দ্রবদল

প্রকাশের তারিখ : ১৮ মার্চ ২০২৬

featured Image
কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় এবার বড়সড় রদবদল। দলের প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এবার আবেগের চেয়েও বেশি গুরুত্ব পেয়েছে গত পাঁচ বছরের ‘পারফরম্যান্স’। ১৫ বছরের প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা কাটিয়ে ক্ষমতায় ফিরতে ‘কাজ করলে পদে, নইলে পথে’—অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কড়া বার্তাই প্রতিফলিত হয়েছে ২৯১ জনের তালিকায়।বাদ পড়লেন ৩৩ শতাংশ বিধায়কতৃণমূলের ইতিহাসে এবারই সবচেয়ে বড় ঝাড়াই-বাছাই প্রক্রিয়া চলল। দলের মোট ৭৪ জন বিধায়ক এবার টিকিট পাননি। অর্থাৎ বর্তমান বিধায়কদের প্রায় ৩৩ শতাংশকে এবার বাতিলের খাতায় রেখেছে জোড়াফুল শিবির। দলীয় সূত্রে খবর, আইপ্যাক (I-PAC)-এর সমীক্ষা এবং সাংগঠনিক সক্রিয়তা বিচার করেই এই কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শহর ও মফস্সল এলাকায় যেখানে লোকসভা ভোটে সমর্থন আলগা হয়েছিল, সেখানেই ছাঁটাইয়ের কোপ পড়েছে সবচেয়ে বেশি।তালিকায় বাদ পড়া উল্লেখযোগ্য নামের মধ্যে রয়েছেন:তারকা ও হেভিওয়েট: চিরঞ্জিত চক্রবর্তী (বারাসত), কাঞ্চন মল্লিক (উত্তরপাড়া), মনোরঞ্জন ব্যাপারী (বলাগড়)।মন্ত্রী ও প্রবীণ: মনোজ তিওয়ারি, বিপ্লব রায়চৌধুরী, জোৎস্না মান্ডি, তাজমুল হোসেন।বিতর্কিত মুখ: নিয়োগ দুর্নীতিতে জেলবন্দি মানিক ভট্টাচার্য ও জীবনকৃষ্ণ সাহা।কেন্দ্রবদল ও নতুন মুখক্লিন ইমেজের স্বার্থে এবং প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা এড়াতে ১৫ জন বিধায়ককে (৭ শতাংশ) পুরনো আসন বদলে নতুন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন শওকত মোল্লা (ভাঙড়), সোহম চক্রবর্তী (করিমপুর), রত্না চট্টোপাধ্যায় (বেহালা পশ্চিম)-এর মতো নাম।অন্যদিকে, সারাবছর সংগঠনের কাজে সক্রিয় থাকা ‘টিম অভিষেক’-এর তরুণ তুর্কিরা এবার বড় সুযোগ পেয়েছেন। চুঁচুড়ায় দেবাংশু ভট্টাচার্য, নোয়াপাড়ায় তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য, খড়দহে দেবদীপ পুরোহিত এবং বেলেঘাটায় কুণাল ঘোষের নাম সেই জল্পনাকেই সিলমোহর দিয়েছে। ফিরে এসেছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো পুরনো নেতারাও।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই তালিকায় নবীন-প্রবীণের ভারসাম্যের চেয়েও বড় বার্তা হলো ‘অ্যাকাউন্টেবিলিটি’। আইপ্যাক-এর মাঠ পর্যায়ের রিপোর্ট এবং গত পাঁচ বছরের কাজের নিরিখে যারা ফেল করেছেন, তাঁদের সপাটে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্তমান এবং হবু বিধায়কদের কাছে বার্তা খুব পরিষ্কার—জনগণের কাজ না করলে দলের অন্দরে টিকিটের কোনো গ্যারান্টি নেই।

Hidden Stories (বাংলা)


কপিরাইট © ২০২৬ Hidden Stories (বাংলা) । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দৃষ্টি আকর্ষণ

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।

— হিডেন স্টোরিজ পরিবার