নির্বাচনী প্রচারের শুরুতেই বড়সড় ধাক্কা খেল ডেবরা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল শিবির। বালিচকের দলীয় কার্যালয়ে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে প্রথম পরিচিতি সভাতেই প্রার্থী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম বিতর্ক। প্রকাশ্য সভায় খোদ প্রার্থীর মুখেই শোনা গেল— “আমার ডেবরা আসার কথা ছিল না!”
একটি ভাইরাল ভিডিওতে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা যায়, দল প্রথমে তাঁকে অন্য একটি কেন্দ্রের দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলেছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হওয়ায় তিনি ডেবরায় এসেছেন। প্রার্থীর এই মন্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— তবে কি নিজের অনিচ্ছাতেই ডেবরায় লড়তে এসেছেন প্রাক্তন সেচমন্ত্রী? এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের দীর্ঘদিনের চাপা থাকা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দলের অভ্যন্তরে যে মতপার্থক্য রয়েছে, তা কার্যত মেনে নিয়েছেন তৃণমূলের ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অজিত মাইতি। তবে তাঁর দাবি, এটি বড় কোনো সমস্যা নয় এবং দ্রুত সব গোষ্ঠীর নেতাদের এক টেবিলে বসিয়ে বিবাদ মিটিয়ে নেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, এবার বিদায়ী বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে ডোমকলে পাঠিয়ে ডেবরায় রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রার্থী করেছে দল।
তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে হাতিয়ার করতে দেরি করেনি বিজেপি। ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি তন্ময় দাসের পাল্টা তোপ, “পরাজয় নিশ্চিত জেনে কেউ প্রার্থী হতে চাইছেন না, তাই বাইরে থেকে লোক আমদানি করতে হচ্ছে। ডেবরা এবার ভূমিপুত্রকেই বিধায়ক হিসেবে চায়।” উল্লেখ্য, এই কেন্দ্রে বিজেপির বাজি শুভাশিস ওম।
প্রচারে নেমেই প্রার্থীর এমন মন্তব্যে কর্মীদের মনোবল ভাঙবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। ডেবরা কি শেষ পর্যন্ত রাজীবের হাত ধরবে? নজর থাকবে সেদিকেই।

রোববার, ১৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মার্চ ২০২৬

প্রিয় পাঠক, কারিগরি ত্রুটির জন্য আমাদের ওয়েবসাইটি কয়েকঘণ্টা বন্ধ থাকায় আমরা আন্তরিক দুঃখিত। ভবিষ্যতে এরকম ত্রুটি এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।
— হিডেন স্টোরিজ পরিবার
আপনার মতামত লিখুন